জুলাইয়ের ৩ দিনে হাজারের বেশি রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে

Posted: 06 জুলাই, 2025

একতা প্রতিবেদক: জুলাই মাসের তিন দিনে মোট ১ হাজার ১৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৩ জন। চলতি বছর ১১ হাজার ৪৫৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৩২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। যার মধ্যে ঢাকায় ৩৫১ জন, বাকি ৯৭৮ জন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন এবং মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন, মে মাসে ৩ জন মারা গেছেন। এদিকে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চীন সরকার ১৯ হাজার কম্বো কিট দিয়েছে। আরও কার্যকরভাবে ডেঙ্গু শনাক্তে সক্ষম এসব কিটে একসঙ্গে এনএস-১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা যাবে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ কিট হস্তান্তর করা হয়। নিজেদের নিরাপদ রাখতে কেউ নজর দিচ্ছেন মশারির দিকে; কেউবা মশা নিধনে, আবার কেউ-বা মাস্ক ব্যবহারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে- প্রয়োজনে দিনে অন্তত সাতবার, প্রতিবার কমপক্ষে ২৩ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নাক ও মুখ ঢেকে মাস্ক ব্যবহার, সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা, হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় কনুই, টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক এবং মুখ ঢেকে রাখা। স্বাস্থ্য বিভাগ- যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু হাতেগোনা কিছু মানুষ ছাড়া কেউই মাস্ক পরিধানের মতো সাধারণ নির্দেশনাও মানছেন না। এ অবস্থায় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সাধারণত শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত করে। মহামারির সময়ে কেএন-৯৫ মাস্ক, কাপড়ের মাস্ক বা ফেস শিল্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে শ্বাসতন্ত্রে রোগগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। রোগী শনাক্তের হার বৃদ্ধিতে করোনা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রোগতত্ত্ববিদেরা। চলতি বছর করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৯ জন। এ যাবত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫২ হাজার ১৫৪ জন। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের (খবর লেখা পর্যন্ত) করোনায় মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে শুরু থেকে এ যাবত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫২৩ জনের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ বছর ডেঙ্গু-কোভিড মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক ওষুধ না থাকায় সচেতনতাই এর প্রধান প্রতিরোধ। যথাসময়ে বিশ্রাম, তরল খাবার ও সুষম পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে শরীরকে শক্তিশালী করে তোলা যায়। পাশাপাশি প্লাটিলেটের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে জানান পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা। একদিকে ডেঙ্গু অন্যদিকে করোনা ভাইরাস দেশবাসীকে অস্থির করে তুলেছে। আবারও নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে কোভিড। সেই সঙ্গে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ ঠান্ডাজনিত রোগের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।