৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য দুইজন শিক্ষক ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা

Posted: 01 জুন, 2025

ফরিদপুর সংবাদদাতা : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোকনউদ্দিন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে দুইজন শিক্ষক দিয়ে। বর্তমানে শিক্ষক সংকটে এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। গত ২৭ মে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক সবিতা সরকার বলেন, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকসহ মোট ১১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে তিনজন শিক্ষক আছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট দুর করার পাশাপাশি এই বালিকা বিদ্যালয়টিতে নারী শিক্ষকের খুব প্রয়োজন। বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে সবিতা সরকার দায়িত্ব পালন করলেও দুই মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন বলে প্রতিবেদককে জানান। স্কুলসূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস পূর্বে প্রধান শিক্ষক অবসরে যান। পাশাপাশি বদলিজনিত কারণে ৩ জন ও বিএড প্রশিক্ষণে গেছেন একজন শিক্ষক। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে তিন শতাধিক। নিয়মিত সকল ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির হারও কমে গেছে। ইতিমধ্যে শূন্যপদগুলোতে শিক্ষক চেয়ে গত মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি আবেদন করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে কোন অফিস সহায়ক নেই। একজন সিনিয়র শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চলছে বিদ্যালয়টিতে। সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র দুজন শিক্ষক দুটি ক্লাসে থাকায় অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা রুমে বসে অলস সময় পার করছেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টিতে সন্তানদের ভর্তি করিয়ে বিপাকে পড়েছেন মন্তব্য করে অভিভাবকরা বলেন, বর্তমানে শিক্ষক সংকট ও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় বাচ্চারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। শিক্ষক সংকট দূরীকরণ ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যালয়টির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, আমি এই উপজেলাতে এসেছি কয়েক মাস হলো। শিক্ষক বা কোন অভিভাবক এই বিষয়টি আমাকে জানায়নি। সদ্য শেষ হওয়া এসএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূরীকরণে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মাকসুদুর রহমান জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই বিষয়টি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস দেখভাল করে। এ ব্যাপারে তার কোন কিছু করার নেই। জেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।