ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে কারসাজি

Posted: 13 এপ্রিল, 2025

একতা প্রতিবেদক : বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের সরবরাহ সংকট গতবছর থেকেই; কখনও বোতলজাত, আবার কখনও খোলা তেলের। তবে রমজানে তেমন সংকট না থাকলেও সামনের কুরবানিতে সরবরাহ সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে বেশি দামে বিক্রি করছেন সয়াবিন ও পাম তেল। কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা বাড়বে নিশ্চিত, তাই সরবরাহ কিছুটা বন্ধ। দাম বাড়লেই দুই-চার দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে বাজার। রাজধানীর পাইকারি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে এক লাফে ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা। ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। যা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিল মালিকরা। কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ঈদের ছুটি শেষে গত ৬ এপ্রিল সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসেন সয়াবিন তেল পরিশোধনকারী দেশীয় মিল মালিকেরা। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পরেও ওই বৈঠকটি কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। একদিন বাদ দিয়ে ৮ এপ্রিল আবারও ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকরা বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নকশা অনুযায়ী সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়াতে না পেরে কিছুটা হতাশ পরিশোধনকারী মিল মালিকরা। দাম বাড়ানোর আশায় আগে থেকেই মিলগেট থেকে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, এক লাফে তেলের দাম ১৮ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কারণ হিসেবে আমদানি পর্যায়ে শুল্ককর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে দাম সহনীয় রাখতে আমদানি পর্যায়ের অব্যাহত শুল্ক-কর রেয়াত ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। জানতে চাইলে রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. বিপ্লব হোসেন জানিয়েছেন, পুরো রোজার মাসেই কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিয়ে টালবাহানা করেছে। এখনও করছে। কোম্পানির লোক এসে বলে গেছেন, দাম লিটারে ১৮ টাকা না বাড়লেও কম করে হলেও লিটারে ১০ টাকা বাড়বে। তাই সরকারি সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এদিকে রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো ঠিকভাবে ডিও দিচ্ছে না। তাই বাজারে সয়াবিনের সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় ভোজ্যতেলের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে অনেক দিন ধরেই। সামনে কোরবানির ঈদ, তাই সরকার তেলের দাম না বাড়ালে মিল মালিকরা বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেবে বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, দেশে প্রতিবছর ভোজ্যতেলের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে আড়াই লাখ টন তেল দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি ২০ থেকে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়।