রমজানেও তীব্র গ্যাস সংকটে গ্রাহকেরা

Posted: 09 মার্চ, 2025

একতা প্রতিবেদক : রমজানে ইফতার বানানোর তোড়জোড় থাকলেও বাদ সাধছে তীব্র গ্যাস সংকট। বেশিরভাগ বাসিন্দাই তাই রান্না করেন ঘরে তৈরি চুলার সাহায্যে। তারা জানান, বেশিরভাগ সময় ভুগতে হলেও, রোজা এলে ভোগান্তি বাড়ে কয়েকগুণ। গ্যাস কখন আসবে তা নিয়ে থাকতে হয় অনিশ্চয়তায়। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে গ্যাসের সংকট। চুলায় গ্যাস না থাকায় সেহরির খাবার ও ইফতারি তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছেন গৃহিণীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকা, মিরপুরের পল্লবী, উত্তর যাত্রাবাড়ী, মধ্য বাসাবো, দক্ষিণ বনশ্রী, কাফরুল, শুক্রাবাদ, কাঁঠালবাগান, পান্থপথ, হাতিরপুল, তেজগাঁও, উত্তরার কোথাও কোথাও গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ থাকে না। যেটুকু থাকে, তাতে রান্না করা যায় না। বাধ্য হয়েই রান্না করতে হচ্ছে ইলেকট্রিক, সিলিন্ডার কিংবা লাকড়ির চুলায়। এতে একদিকে জ্বালানির খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি গ্যাস না পেলেও গুণতে হচ্ছে বিল। অথচ, রমজানে মানুষকে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছেন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। লোডশেডিং মুক্ত রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া শিল্প, কলকারখানায়ও গ্যাস সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। আর এতেই টান পড়েছে বাসাবাড়ির গ্যাসের চুলায়। গ্রাহকরা বলছেন, কোনো কোনোদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের পুরোটা সময়ে দেখা মেলে না গ্যাসের। গ্যাস না থাকলেও মাস শেষে বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। এদিকে, রমজানের শুরুতেই রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। গাড়িগুলোর দীর্ঘ সারি জমছে স্টেশনগুলোতে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালক ও মালিকরা। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ কম দেখিয়ে গ্যাস কম দিচ্ছেন স্টেশনগুলো। তাছাড়া অল্প পরিমাণ গ্যাস মিললেও লাইনে দাঁড়িয়ে নষ্ট হচ্ছে অনেক সময়। এতে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। তিতাস বলছে, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম থাকায় গ্যাসের এ সংকট। তবে অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে। তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট চাওয়া হচ্ছে পেট্রোবাংলার কাছে। তবে মিলছে ১৫০০ মিলিয়নের মতো। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যা কেটে যাবে। চলতি বছর শীতের পুরোটা সময় ছিল গ্যাস সংকট। এ পটভূমিতে মার্চের শুরুতে শুরু হয়েছে রমজান মাস। গ্যাস নিয়ে এ মাসেও ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না। এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেবে এমনটিই প্রত্যাশা নগরবাসীর।