‘বাস্তবতা’

Posted: 19 নভেম্বর, 2023

একতা প্রতিবেদক : ভাল কাজ করে যত দ্রুত পরিচিতি পাওয়া যায়; খারাপ কাজ করে তার চেয়ে অনেক আগে এবং বেশিমাত্রায় পরিচিত হওয়া যায়। ইতিহাসে কে নাম রাখতে না চায়! হোক সেটা খারাপ কাজ করে হলেও। দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের দেখে এটা যে কেউ ধারণা করতেই পারেন। ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাদের নাম জনসাধারণ্যে বিশেষ না জানলেও কার্যকালে বা বিদায় নেওয়ার পর তাদের নাম মানুষ বেশ ভালভাবেই জেনে যায়। হয় দায়িত্বপালনকালে তাদের কথাবার্তার কারণে, নাহলে তাদের স্বজনপ্রীতি আর নিয়োগ-বাণিজ্যের কারণে। যদিও শিক্ষকের পরিচিত হওয়ার কথা ছিল তার শিক্ষাপ্রদানের যোগ্যতা, গবেষণাকর্ম কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে। কিন্তু সেসব তো এখন বিগত শতাব্দীর ফেলে আসা দিনগুলোর মত শুধুই স্মৃতি। স্মৃতির ঝাঁপি তাড়িয়ে ভিসিরা এখন সমাজ-রাজনীতি-তদবিরের বাস্তবতার শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করে তুলেছেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যবিদায়ী ভিসি অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান এর ব্যতিক্রম হতে যাবেন কোন দুঃখে। সবাই যে পথে করেছে গমন, তিনিও সেই পথে ইতিহাসে অমর হতে চেয়েছেন। দায়িত্বপালনকলেই তিনি বিভিন্ন সময়ে সংবাদে শিরোনাম হয়েছেন। তার ‘১০ টাকায় চা-সিঙ্গারা-সমুচা’ তো বিখ্যাত হয়েই আছে। বিদায়ের পর পরই গণমাধ্যমে ভিসি আক্তারুজ্জামানের ডেকে ডেকে নিজের স্বজনদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আখতারুজ্জামানের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়, যেটি আগে বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে কারণেই ওই অঞ্চলের লোকেরা নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যদিও আখতারুজ্জামান দাবি করেছেন, এ অভিযোগ সত্য নয়। একটি গণমাধ্যম লিখেছে, ছয় বছরের দায়িত্বকালে আখতারুজ্জামান নিজের এবং স্ত্রীর স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন। এই তালিকায় আছেন উপাচার্যের ভাগনে, ভাগনি জামাই; উপাচার্যপত্নীর ভাতিজি, ভাইয়ের ছেলের বউ, ভাগনি জামাই, খালাতো বোনের মেয়েসহ প্রায় ৪০ জন। গত ছয় বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কতোটা এগিয়েছে- সেটা নিয়ে ভাবনা ইতিহাসে তোলা থাকুক। কিন্তু ভিসি ও তার স্বজনরা যে এগিয়েছে সেটা বাস্তব। শিক্ষার বড় গুণ বাস্তবতা বুঝতে পারা।