‘ব্যাটারির যান আটক আতঙ্ক থেকে মুক্তি দিন’

Posted: 19 জুন, 2022

সড়কে চলাচলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ সত্ত্বেও ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক করে ট্রাফিক পুলিশ শ্রমিকদের মধ্যে গাড়ি আটক আতঙ্ক তৈরি করেছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে এই আতঙ্ক থেকে শ্রমিকদের মুক্তি দিন। গত ১৫ জুন সকাল ১১টায় সেকশন-বেড়িবাঁধে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিক সমাবেশ ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক লালবাগ) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এ আকুতি জানান। আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি’র সভাপতিত্বে সেদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, রাগীব আহসান মুন্না, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমন মৃধা, কামরাঙ্গিরচর থানা কমিটির সদস্য জামাল, শহীদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, আরিফ, মহিউদ্দিন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স না দিয়ে শ্রমিকদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ অসাধু সরকারি কর্মকর্তা ও চাঁদাবাজদের লুটপাট করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে লাইসেন্স প্রদান করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং কার্ড ব্যবসার নামে চাঁদাবাজিতে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সরকার গরিবের কর্মসংস্থান কেড়ে নিয়ে বাজেটে বনরুটির দাম বাড়ায় আর এসি হোটেলের খাবারের ট্যাক্স মওকুফ করে। এই বাজেট ধনী তোষণ নীতির সরকারের গরিব মারার বাজেট। এই গনবিরোধী নীতি বদল না করলে জনগণ সরকার বদল করে নিজেদের রুটি-রুজির সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের একটি মিছিল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধ ও বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের দাবিসহ ৫ দফা দাবিতে উপ-পুলিশ কমিশনার ( ট্রাফিক লালবাগ)’র কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান করে। পরে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক লালবাগ) এর সাথে দেখা করে। স্মারকলিপিতে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন উল্লেখ করে বলেন, রিকশা একটি জৈব জ্বালানিবিহীন পরিবেশবান্ধব বাহন। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। রিকশা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে গর্ব করে থাকি। অথচ রিকশা চালকদের অমানবিক পরিশ্রম ও কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক মহল, কাউকেই তেমন কিছু করতে দেখা যায় না। বিজ্ঞান প্রযুক্তির ছোয়ায় জল, স্থল এবং আকাশ-পথে সকল যান রূপান্তরিত হয়ে আধুনিক থেকে আধুনিকতম হলেও রিকশা নামক অতিসাধারণের এই বাহনটি আদি থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ন্যানো টেকনোলজির এই যুগে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ রিকশা চালক মানুষ হয়ে মানুষকে টানছে। যা আমাদের জাতিকে শুধু লজ্জিতই করে না, আধুনিক সভ্যতাকেও পরিহাস করে। পৃথিবীর কোন দেশে এত সংখ্যক শ্রমিক এ ধরনের অমানবিক পেশার সাথে যুক্ত নয়। যান্ত্রিক উৎকর্ষতার যুগে উন্নত বিশ্বে যখন পশু দিয়ে অতিপরিশ্রমের কাজ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়, সেখানে জীবিকার তাগিদে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ ভারবাহী পশুর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই রিকশার যান্ত্রিকীকরণ একটি আবশ্যিক মানবিক কর্তব্য। বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ। সুতরাং বৈধ পথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে। তাছাড়া রিকশা কোন ব্যক্তিগত বাহন নয়। এটি গণপরিবহনেরই একটি অংশ। গণপরিবহণে বিদ্যুৎ ব্যবহার তার গণস্বার্থকে উপকৃত করবে। কারো ব্যক্তিগত আরাম বা বিলাসিতায় এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে না। ব্যাটারিচালিত প্রত্যেক রিকশা চালক তার ব্যবহৃত বিদ্যুতের জন্য বাণিজ্যিক মূল্য দিতে আগ্রহী। ব্যাটারি রিকশা শ্রমিকরা সরকারকে রাজস্ব দিতে চায়। আমাদের দাবি একটি বিধিমালার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করা হোক। আধুনিয়কায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান রাস্তায় চলতে দেয়া হোক। ততক্ষণ পর্যন্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বাইরে অন্যান্য রাস্তায় এবং নিচু এলাকায় আঞ্চলিকভাবে ব্যাটারিরিকশা চলতে দেয়ার সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে ব্যাটারিরিকশা-ভ্যান-মিশুক-ইজিবাইক আটক বন্ধ রাখা হোক। ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বাইরের সড়কগুলোতে চলাচল করছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশের নানা তৎপরতায় গলি ও আঞ্চলিক সড়কসমূহে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে এ সকল ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক করছেন। যার ফলে হাজারও মানুষের পরিবারের রুটি-রুজি হুমকির মুখে পড়েছে। আর এই সুযোগে কিছু অসৎ ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বলে কার্ড ও টোকেনের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি ব্যবসার পাঁয়তারা করছে। এর মধ্য দিয়ে রিকশা শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো উপার্জিত অর্থ এই অসাধু ব্যক্তিরা লুট করে নিচ্ছে। স্মারকলিপিতে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে- অবিলম্বে রিকশা-ভ্যান, মিশুক, ইজি বাইক আটক, পুলিশ-ট্রাফিক সার্জেন্টদের অমানবিক আচরণ, নির্যাতন, চাকা লিক, হাওয়া ছেড়ে দেওয়া, গাড়ি ও সিট আটক, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রস্তাাবিত নীতিমালা চূড়ান্ত করে বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টর আদেশ পরবর্তী সময়ে আটক ও ডাম্পিং-এর কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা-ভ্যান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। সকল এলাকায় রিকশা ভ্যান, মিশুক ও ইজি বাইক স্ট্যান্ড চালু করতে হবে। পরে ডিসি ট্রাফিক লালবাগসহ পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রমিকদের অবস্থান সমাবেশে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন ও গাড়ি আটক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।