গণপরিবহনে নৈরাজ্য

Posted: 21 নভেম্বর, 2021

দীর্ঘদিন ধরেই সড়কে চলছে নৈরাজ্য। গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্যে গণমানুষের ভোগান্তিও থেমে নেই। সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন সরকার নির্ধারিত বাসে বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করা নিয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। নতুন করে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সুযোগে পরিবহন মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া আদায় করছেন। এতে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের ঝগড়া লেগেই আছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে যায়ায়াত করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন গণপরিবহন শ্রমিকরা। তারা কোনো নিয়ম-নীতি মানছেন না। কিলোমিটার না মেনেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। তবে পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি কিলোমিটার বা মিটার মেপে ভাড়া আদায় করা সম্ভব নয়। তাদের টিকিট কাউন্টারগুলোও মিটার মেপে বাসানো হয়নি। ফলে আগের নির্ধারিত ভাড়া থেকে প্রতি কাউন্টারে গড়ে পাঁচ টাকা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ডিজেলে দাম বাড়ার পর গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য যেন থামছে না। যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে বিভিন্ন রুটে যাত্রী, চালক ও হেলপারের সঙ্গে প্রতিনিয়তই বাকবিতণ্ডার পাশাপাশি ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মালিক-শ্রমিক-সরকার মিলেমিশে একচেটিয়াভাবে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে বর্ধিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন ছাড়া বাসে বাসে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। জানা গেছে, ২০২০ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ২৩২টি, যার ১ হাজার ১২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ ট্রাক ও ২২ শতাংশ বাস দুর্ঘটনা। বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, ২০১৬ সালে ২৮৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন মারা যান। ২০২০ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮টিতে, মারা যান ১ হাজার ৯৭ জন। এ সংখ্যা কেবল উদ্বেগ বাড়ায় না, সড়ক পরিবহনে যে ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে, তারও চিত্র সামনে আনে। সপ্তাহ পার হলেও সড়কে পরিবহন নৈরাজ্য আছে আগের মতোই। নেই বিআরটিএর চার্ট, আদায় হচ্ছে বাড়তি ভাড়া, অনেক সময় বাজে ব্যবহারও। অনেকের অভিমত, মামলা-জরিমানা নয়, ডিজিটাল দেশে দরকার ডিজিটাল সিস্টেম। শুধু তাই নয়, ভাড়া নৈরাজ্যের এমন টানাপোড়েনে আছে ১০ টাকার মারপ্যাঁচও। সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নিয়েও রয়েছে আপত্তি। সাধারণের অভিযোগ, দূরত্ব যখন স্বল্প, লাভের অংক তখন বেশ বাড়ন্ত। কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা বাড়লে সে পথটুকু পাড়ি দিয়ে যদি দিতে হয় ১০ টাকা, মালিকের পকেটে ঢোকে ৮ টাকা। এতো গেলো দূরত্বের মারপ্যাঁচ, অভিযান চলাকালে চোখে পড়লো রুট পরিবর্তনের কারসাজিও। দোষটা তবে কার আর গলদটাইবা কোথায়? গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করে মালিক মুনাফা লুটবে, আর আপামর জনগণের শুধু পকেট কাটা যাবে। গণপরিবহনে নৈরাজ্য এবং বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।