‘উপভোগ’

Posted: 21 নভেম্বর, 2021

একতা প্রতিবেদক : কে না জানে, দুনিয়ার যে হাল সেই চালেই চলতে হয়। নাহলে বিপদ আসন্ন। যদিও কারো কারো কাছে এই বিপদ নিছক একটা খেলাই। ক্ষমতাসীনদের কাছে তো বটেই। এই খেলাই খেলে চলেছে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তারা ক্ষমতায়, ফলে গোটা ক্যাম্পাসের সবকিছুই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। কে নাচবে, কে গাইবে, কাকে মারা হবে, কাকে ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতিতে নির্যাতন করা হবে- সেসবও তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্ষমতাসীন দলের লোক হিসেবে এটা তাদের এক ধরনের ‘অধিকার’ও বটে। নাহলে তারা ক্যাম্পাসে থাকবেন কেন? জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রথম বর্ষের দুই ছাত্রীকে র্যা গিংয়ের নামে আপত্তিকর গানের সঙ্গে নাচতে বাধ্য করা হয়েছে। দীর্ঘরাত পর্যন্ত তাদের মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগও দিয়েছেন দুই ছাত্রী। এই ঘটনা গত ১৭ নভেম্বরের। যদিও ছাত্রলীদের নেত্রীরা বলছেন, তারা গানের সঙ্গে নাচ ‘উপভোগ’ করেছে। এখানেই শেষ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গেস্টরুম কর্মসূচি’ শিথিল হওয়ার আনন্দে ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের বেশ কিছু ছাত্র। এ কারণে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে ছাত্রলীগের চার কর্মী মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ১৮ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে। হলগুলোর অতিথিকক্ষে ‘আদবকায়দা’ শেখানোর নামে মানসিক নিপীড়নকে (কখনো কখনো শারীরিকও) বলা হয় ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সক্রিয় কর্মীরা প্রথম বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন গেস্টরুম কর্মসূচি করিয়ে থাকেন। ওইদিন রাতে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সালাহউদ্দিন আহমেদ গেস্টরুম কর্মসূচি শিথিল করার নির্দেশ দেন। সেই আনন্দে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট দেন। পোস্ট দেখে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা ওই রাত ১০টায় গেস্টরুমে তাঁদের তলব করেন। সেখানে হাজির হলে কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন। ছাত্রলীগ অবশ্য বলেছে, এটা ‘গুজব’।