দুর্বার কৃষক আন্দোলনে নতি স্বীকার ‘স্বৈরাচারী’ মোদী সরকারের

Posted: 21 নভেম্বর, 2021

একতা প্রতিবেদক : কৃষকদের আন্দোলনে নতি স্বীকারে বাধ্য হল ভারতের বিজেপি সরকার। গত ১৯ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। বলেছেন, এ মাসে পার্লামেন্টের অধিবেশনেই তিনটি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কৃষকরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, সংসদে যতক্ষণ না আইনগুলোর কবর রচিত হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন-কর্মসূচি চলবে। দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থানও অব্যাহত রাখবেন তারা। কৃষকদের যুক্তি ছিল, নতুন কৃষি সংস্কার আইনগুলো ভারতের নিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে এবং সরকারও ধীরে ধীরে নির্ধারিত মূল্যে গম ও ধান কেনা বন্ধ করে দেবে; যার ফলশ্রুতিতে তাদেরকে ফসল বেচতে বেসরকারি ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে নামতে হবে। কৃষি খাত চলে যাবে বড় ব্যবসায়ী ও বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া বিতর্কিত এ তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ভারতের হাজার হাজার কৃষক মাসের পর মাস দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। ভারতের ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির প্রায় ১৫ শতাংশই কৃষির উপর নির্ভরশীল; দেশটির ১৩০ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আইনগুলো এভাবে জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চিত অবস্থার দিকে ঠেলে দেবে দাবি করে ভারতের কৃষকরা আইনগুলো বাতিল, ফসল কিনতে সরকারের বাধ্যবাধকতা বহালসহ আরও বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিলেন। গণশক্তির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, বিগত এক বছর ধরে ভারতজুড়ে তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে টানা লড়াই চালিয়েছেন ৯০ কোটির বেশি কৃষক। প্রাণ দিয়েছেন ৭০০ কৃষক। কৃষকরা বদ্ধপরিকর ছিল, যদি ৭০০’র বদলে ৭০০০ প্রাণও যায়, তবুও আইন বাতিল না হওয়া অবধি তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। সেই অদম্য জেদের কাছেই অবশেষে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হলেন নরেন্দ্র মোদী। সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক, এবারের কৃষক আন্দোলনের সর্বোচ্চ পরিষদ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার শীর্ষ নেতা হান্নান মোল্লা এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংসদে তিনটি আইন বাতিল না হওয়া অবধি কৃষক আন্দোলন পূর্ণতা পাবেনা। ২০১৪ সালেও কৃষক বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়ে ভূমি অধিগ্রহণ অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সংসদে আজ অবধি সেই অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করা হয়নি। পাশাপাশি হান্নান মোল্লা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কৃষক যাতে তার ফসলের লাভজনক দাম পায়, সেটি সুনিশ্চিত করে স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এমএসপি (মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস) আইন কার্যকর করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তিনি অভিযোগ করেন, ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সারাদেশে ইতিমধ্যেই ৪ লাখের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। সেই মৃত্যুমিছিল ঠেকাতে আগামীদিনে এমএসপি আইনের দাবিতে তীব্র লড়াই গড়ে তোলা হবে।