নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে কাহিল মধ্যবিত্ত

Posted: 10 অক্টোবর, 2021

দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম। এতে কপালে ভাঁজ পড়েছে স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষদের। কমপক্ষে ১০-২০% বেড়েছে মাসিক বাজার খরচ। বিশেষ করে শাক-সবজি, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় এখন মধ্যবিত্তের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পরিচালিত ট্রাক সেলের লাইনে একসময় নিম্নআয়ের মানুষেরা লাইন ধরে দাঁড়াত পণ্যের জন্য। এখন সেই কাতারে মধ্যবিত্তরাও সামিল হচ্ছেন। করোনার কারণে চাকরি-ব্যবসা হারিয়ে নিজেকে টিসিবির লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মধ্যবিত্ত। আর এই ভিড় সামলাতে হিমসিশ খাচ্ছে টিসিবিও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বাজারে হুট করে বেড়েছে পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। এছাড়া মোটা চালের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে রাজধানী বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রাকের সামনে ৫০ থেকে ৬০ জন করে ক্রেতার লাইন; যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বিক্রেতারা জানান, আগে ট্রাক সেলে কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসতো নিম্নআয়ের মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, গাড়িচালক কিংবা গৃহকর্মী। তবে এখন সেই লাইনে পণ্য কিনতে মধ্যবিত্তরা ভিড় করছেন, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপও বটে। রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকায় টিসিবির ট্রাক সেলের দায়িত্বে থাকা একজন জানালেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে মানুষ আমাদের কাছে বেশি ভিড় করে। আমরা সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করি। এখন চিত্র ভিন্ন। সাধারণ বাজার থেকে দামে কিছুটা কম বলে মধ্যবিত্তরাও টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে এসে ভিড় করছেন। আগে আমাদের মালামাল বিক্রি কার্যক্রম শেষ করতে সন্ধ্যা হয়ে যেতো। এখন তো ঘণ্টা দুইয়ের মধ্যে সব বিক্রি শেষ হয়ে যায়। আমাদের বরাদ্দ কম বলে অনেকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতেও ফিরে যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় পণ্যের বরাদ্দ অনেক কম। টিসিবির ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী হুমায়ুন কবির বলেন, ভোক্তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে টিসিবি এখন ১০ থেকে ১২ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করছে, যা আগে ছিল মাত্র এক থেকে দুই শতাংশ। চাহিদা বাড়ায় ট্রাক সেল বাড়ানো হয়েছে। ভোজ্য তেল সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজারে এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪২ টাকা কেজি দরে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেও খোলা সয়াবিন ছিল ১৩৭ থেকে ১৩৮ টাকা কেজি। এর আগে গেল জানুয়ারিতে ছিল ১২২ থেকে ১২৪ টাকা কেজি। বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন ১৫৩ থেকে ১৬০ টাকা লিটার। গত আগস্ট পর্যন্ত ছিল ১৪৫ থেকে ১৪৯ টাকা লিটার। জানুয়ারিতে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সয়াবিনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পাম তেলের দামও। পাম লুজ ও সুপার বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ থেকে ১৩৬ টাকা কেজি দরে। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রতি কেজির দাম ছিল ১২২ থেকে ১২৮ টাকা, এর আগে জানুয়ারিতে ছিল ১০০ থেকে ১১২ টাকা কেজি। খাদ্যশস্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ ভীষণ চাপে আছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে নিত্যপণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ঘুমন্ত টিসিবিকে জাগাতে হবে। পণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকলে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারবে না। তাতে সাধারণ মানুষও কিছুটা স্বস্তি পাবে।