বিবাহ-তত্ত্ব

Posted: 12 সেপ্টেম্বর, 2021

একতা প্রতিবেদক : কথা উঠলেই তো বলবেন, বাংলাদেশটা নিয়ে কেউ ভাবে না! কিন্তু কতজন কতভাবে যে বাংলাদেশকে আর দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আর গবেষণা করতে করতে নিজের জীবন ক্ষয় করে চলছেন- সেটা কেউ দেখে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকার সমস্যা। দেখুন, এটা নিয়ে কেউ কোনোদিন ‘অভিনব পদ্ধতিতে’ ভাবতে পারেনি। তাবড় তাবড় গবেষক এতদিন খালি কাগজ-কলম আর মস্তিষ্ক খরচ করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ একজন সংসদ সদস্য, দীর্ঘদিনের গবেষণাপ্রসূত ফলাফল প্রকাশ করে দেখিয়ে দিলেন, কত সহজ সমাধান আমাদের হাতের মধ্যে রয়েছে। আর, সেটা আমরা এতদিন টেরই পাইনি। বললেই তো বলবেন, সংসদ আজ ব্যবসায়ীদের আখড়া হয়ে গেছে, সংসদ বড়লোকদের ক্লাব হয়ে গেছে- ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সংসদে যে বাঙালি জাতির স্বার্থে মৌলিক চিন্তা করার মতো গবেষকরা আসছেন সেটা তো অস্বীকার করা যাবে না। সেই কৃতিত্ব অবশ্যই আমাদের, মানে বাংলাদেশের আমজনতার। কারণ, আমরাই তো ‘জেনে-বুঝে-শুনে’ এমন গবেষকদের সংসদে পাঠিয়ে আমাদের সংসদীয় ঐতিহ্যকে মহিমান্বিত করার গুরুদায়িত্ব পালন করছি। বলতে হবে, বাংলাদেশের ভাগ্য ভাল যে, রেজাউল করিম বাবলুর মতো চিন্তক এই জাতীয় সংসদে আছেন। অনেক সংসদ সদস্যই নাকি এই পদ কাজে লাগিয়ে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্যের ধান্ধা করেন। রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু রেজাউল করিম বাবলু তার ‘ব্যতিক্রম’। তিনি এতটুকু বোঝেন যে, রাজনীতি বিল পাস করার জায়গা। সেখানেই তিনি তার মৌলিক চিন্তাগুলো তুলে ধরতে পারেন, যাতে দেশবাসী, সঙ্গে বিশ্ববাসীও উপকৃত হয়। সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু তাই সংসদে দাঁড়িয়েই, বেকার সমস্যার সমাধানে নিজের ‘বিবাহ-তত্ত্ব’ হাজির করেছেন। বগুড়া-৭ আসন থেকে ‘নির্বাচিত’ এ সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘করোনার কারণে চার কোটি জনগোষ্ঠী বেকার হয়েছে। দেশে প্রচলিত সামাজিক রেওয়াজ আছে- চাকরিজীবী কোনো পুরুষ চাকরিজীবী নারীকে বিয়ে করতে চান। আবার চাকরিজীবী নারীও একজন চাকরিজীবী পুরুষকে বিয়ে করতে চান। এতে কিন্তু বেকার সমস্যার সমাধান হয় না।’ স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য এরপরই তার অভিনব প্রস্তাব রাখেন। বলেন, ‘এখানে আইনমন্ত্রী আছেন, উনাকে নিবেদন করব, এমন একটি আইন উনি সুবিধাজনকভাবে করবেন যেন কোনো চাকরিজীবী নারী কোনো চাকরিজীবী পুরুষকে বিয়ে করতে না পারেন। কোনো চাকরিজীবী পুরুষ কোনো চাকরিজীবী নারীকে বিয়ে করতে পারবেন না। তাহলে আমাদের বেকার সমস্যাটা অনেক পরিমাণে লাঘব হবে। এই প্রস্তাবটি আমলে নিলে চার কোটি বেকারের (সমস্যা) কিছুটা হলেও লাঘব হবে।’ রেজাউল করিম বাবলর এই গবেষণাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিবাহ-তত্ত্ব’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।