দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় সমাজতন্ত্র অভিমুখে এগিয়ে নিতে হবে

Posted: 12 সেপ্টেম্বর, 2021

দেশ কেমন চলছে? এ কথার ব্যাখ্যা দেশের সাধারণ মানুষ অনেক ভালো দিতে পারেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামে-গঞ্জে এর প্রতিচ্ছবি সর্বত্র। করোনা মহামারিতে অনেকের মনে হয়েছিল মানুষের উপর রাষ্ট্র, সরকারের মমত্ববোধ, মনুষ্যত্ব বাড়বে। না, সেই আলামত মিলল না। মনুষ্যত্বের উপর আঘাত দিনে দিনে আরো দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। আমাদের দেশে তো এসময় দুর্নীতি, অন্যায়, অব্যবস্থাপনার কমতি নেই। এক্ষেত্রে যেন নতুন উৎসব চলছে। বিশ্বে যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ডামাডোল চলছে, সেই ডামাডোলের সাথী হয়ে আমাদের দেশের শাসকদের কর্মকাণ্ড একদিকে দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরদিকে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। প্রচলিত ব্যবস্থাই এই অবস্থা তৈরি করছে। করোনার শুরুতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে দূরাবস্থা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সেই অবস্থা থেকে ব্যাপক অগ্রগতি হলো না। ‘মুনাফা’র কাছে মনুষ্যত্ব যেন হারতে বসেছে। বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির মাঝে করোনা প্রতিরোধে দ্রুত টিকার আকাক্সক্ষা ছিল সকলের। এটি পূরণের পথে অগ্রসরতারও দেখা মিলল। কিন্তু সর্বজনীনতা মিলল না। মোড়ল দেশগুলো মুনাফা’র পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চলেছে। অপ্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হতে থাকলেও অনেক দেশ টিকা মজুদ করে রেখেছে। অন্য দেশগুলোকে দিচ্ছে না। টিকা উৎপাদনকারীরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে মুনাফার পাহাড় গড়ছে। টিকা উৎপাদনের ফর্মুলা উন্মুক্ত করার দাবি থাকলেও তা হচ্ছে উপেক্ষিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান আক্ষেপ করে বলছেন, ‘প্রতিশ্রুতি নয় টিকা চাই।’ এসব তো চলতি ব্যবস্থারই ফল। দেশে এই করোনা মহামারির মধ্যেও মানুষকে কোনোভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে না শাসকরা। মূল্যবৃদ্ধিসহ জনজীবনের সংকট কমছে না বরং বেড়েই চলেছে। যা মানুষ প্রতিদিন টের পাচ্ছে। করোনায় কর্মহানী ও দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য তো সরকারি হিসেবেই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এসব প্রতিকারে ব্যবস্থা নেই। নেই সংকট উত্তরণে অন্তবর্তীকালীন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও। এতো সবের পরও দেশের সাধারণ মানুষ টিকে আছে। গ্রামের কৃষক-ক্ষেতমজুর ফসলের ন্যায্যমূল্য ও সারা বছর যথাযথ মজুরি না পেলেও ফসল উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। করোনায় জীবনকে উপেক্ষা করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিশেষ ভূমিকা রেখে পর্যাপ্ত মজুরি না পেয়েও উৎপাদন অব্যহত রেখে মালিকদের আয় বাড়িয়ে চলেছে। বিদেশে থাকা শ্রমজীবীদের জীবনে সংকট থাকলেও, দেশে এসে বিপদে পড়লেও, তারা রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ কমায়নি বরং শেষটুকু উজাড় করে দেশে পাঠিয়েছেন, পাঠাচ্ছেন। এরপর এই সংকটে স্থানীয় মানবিক উদ্যোগ বা সরকারের সামান্য সহায়তা- এসব নিয়েই মানুষ টিকে আছেন। যারা অর্থ তৈরি করছে, নিয়মের(!) বেড়াজালে তাদের অর্থ চলে যাচ্ছে ফটকাবাজ, কারবারিদের হাতে। বৈষম্য বেড়েই চলছে। দেশের মানুষের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে উন্নয়নের শোরগোল চলছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের ভিড়ে মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড বেড়েই চলছে। জলবায়ু উদ্বাস্ত এলাকা ও মানুষ বেড়ে চললেও তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। চলতি ধারার উন্নয়ন প্রকল্প সামাজিক ও পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব বাড়িয়েই চলেছে। এই চলতি ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সারা দেশে বিস্তার ঘটেছে ভয়ের সংস্কৃতির। ‘সবকিছু ঠিক আছে’, ‘ভরসা রাখুন’। এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রচার আর না মানলে নানা রকম ‘তকমা’ জুড়ে দেওয়া বেড়েই চলেছে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়িত ধারায় লালিত এসব কার্যক্রম রাজনীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে নির্বাহী বিভাগ। সম্প্রতি বরিশালের ঘটনায় আমলা অ্যাসোশিয়েশনের বেপরোয়া বিবৃতি যেন সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিদেশে টাকা পাচার, দুর্নীতিতে এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক, ক্ষমতার সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের থেকে আমলাদের পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে। এরাই ক্ষমতার প্রধান খুঁটিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ এর নির্বাচনের নামে ‘রাতে ভোট সম্পন্ন করার’ পর এরা আরো বেপরোয়া হয়েছে। অন্যদিকে এদের বিমুখ না করতে বন্দনা কমছে না। নামে সংসদ আছে। এর খবর সবার জানা। এটি যেন জনগণের টাকা খরচ করে নিম্নমানের বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আর বিচার বিভাগের উপর মানুষের অবস্থায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নামে যতটুকু ছিল, কাগজে কলমে তা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। ভোটে দাঁড়ানোর সমসুযোগ আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ছিল না। নানা সংকটের মধ্যেও ভোট দেওয়ার যতটুকু অধিকার ছিল তা নির্বাসিত হয়েছে। শুধু জাতীয় সংসদ নয়, নানা জায়গায় এখন আর নির্বাচন নেই। পুরো নির্বাচন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষ নির্বাচনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এতে সবক্ষেত্রে মানুষের সম্পৃক্ততা কমছে। রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বেড়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আরো সংকুচিত করে ফেলছে। মানুষের ভোটের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার আজ নির্বাসিত। সাম্প্রদায়িকতা, সশস্ত্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিপদ কমেনি। বিএনপি এদের সাথে জোট অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ সরকার নানা আপস ফর্মুলা নিয়ে চলছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিবর্তন করে পর্যন্ত এদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করছে। আর এই অন্ধকারের অপশক্তি এসব সুযোগ নিয়ে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক আধিপত্য রক্ষা করে চলেছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানী উত্থানে এরা মানসিক উজ্জীবনের চেষ্টা করছে। লুটপাটতন্ত্র যেন আইনি রূপে ‘হালাল’ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। এক বালিশের দাম যতো হাজার টাকাই হোক না কেন বা এক প্রজেক্ট পাঁচ, দশ গুণ বেশিতে নেওয়ার পরও সময় বাড়িয়ে আরো কয়েকগুণ বড়ালেও বলা হচ্ছে, সব হচ্ছে ‘আইন মেনে’, ‘নিয়ম মেনে’। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ না থাকায় এসব ‘আইনি(!) দুর্নীতি’ যেন গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ ও বিদেশি আধিপত্য গোষ্ঠীর থাবা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়ে চলেছে। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের টিকে থাকা ও তাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য খোলামেলাভাবে প্রকল্প, ব্যবসা ভাগাভাগি করতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না। শাসকদের অন্য অংশ ভবিষ্যতে ক্ষমতার আসার আশায় এসব বিষয়ে নিশ্চুপ থাকছে। নতুন নতুন ভাগীদারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সব মিলিয়ে গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদের বিপদ আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। অতি সাধারণ চোখে আজ দেখা যাচ্ছে: সরকার ব্যর্থ, রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যর্থ, প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ব্যর্থ। তাই মানুষের মুক্তি অর্জন করতে এই সব ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া সমস্যার সমাধান নেই। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এসব কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরে দিকনির্দেশ করছে যে, এসব ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েমকারী মহাজোট সরকারকে সরাতে হবে। একই সাথে লুটেরা ধনিকদের শাসনের অবসান ঘটাতে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে। চলতি আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সম্পন্ন করতে হবে। লক্ষ্য হবে সমাজতন্ত্র মুখীনতা। যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারও বটে। মনে রাখতে হবে, এসব কাজকে সমগুরুত্ব দিয়ে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া শুধু সরকার বদল করলেই মানুষের মুক্তি আসবে না। এই কাজ করায় সিপিবি সর্বস্তরে সাধ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা গ্রহণ করছে, করবে। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করে জনগণকে সাথে নিয়ে আরো জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলবে। একইসঙ্গে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গড়ে ওঠা বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর করবে। এটা আমাদের জানা যে, বাম জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে ও অন্যান্য বাম দাবিদার দলগুলোর মধ্যে নানা ধরনের সংকীর্ণতা, হঠকারীতা, সুবিধাবাদ ইত্যাদি প্রবণতা থাকতে পারে। সম্প্রতি আওয়ামী-বিএনপি বলয়ের দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে নীতিনিষ্ঠ শক্তিকে নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত কোনো কোনো দল ও নেতৃত্বের ভূমিকা এসব প্রবণতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এতে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি। তারপরও ধৈর্য ধরে বাম গণতান্ত্রিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে চলতে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। নীতিনিষ্ঠ আন্দোলন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রাণশক্তি হিসেবে সামনে আসলে, অনেক প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যাবে। তাই এ কাজে সিপিবি’র সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের সবচেয়ে পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পার্টি হিসেবে সিপিবিকে চলমান দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে দেশবাসীর কাছে দায়িত্বশীল দল হিসেবে সামনে আনতে হবে। পার্টি এজন্য বিগত কংগ্রেস যে পথ নির্দেশ করেছে, সেই পথেই একাজ করতে হবে। শাসকগোষ্ঠীর ধারার শক্তি-সমাবেশের বিপরীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো যোগ্যতা ও সমর্থ সম্পন্ন জনগণের আস্থাভাজন শক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সামনে তা দৃশ্যমান করতে হবে। জনগণের শ্রেণিগত ও ন্যায্য দাবিতে গণসংগ্রামে শ্রমজীবীসহ সাধারণ মানুষকে সমবেত করে তাদের সচেতন ও সংগঠিত করতে হবে। বর্তমান শাসকশ্রেণির আধিপত্য খর্ব করে বিকল্প শ্রেণির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতন্ত্রহীনতা, রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা, সাম্প্রদায়িকতা, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থরক্ষায় বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরা ও জনপ্রিয় করার কাজটি করতে হবে। এর জন্য জনগণের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। যাতে জনগণ এটাকে তাদের নিজস্ব কর্মসূচি মনে করে। বর্তমানে বিশ্বায়নে পুঁজিবাদ নিজেকে টিকেয়ে রাখতে যে ভূমিকা নিচ্ছে, তার বিপরীতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণমুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও দেশে দেশে গড়ে ওঠা জনগণের এসব সংগ্রামে সেতুবন্ধন রচনার কাজটিও গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। দু’শো বছরের ব্রিটিশবিরোধী শাসন, পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আর মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত, লাখো শহীদের রক্তে ভেজা দেশকে আমরা দ্বি-দলীয় বুর্জোয়া রাজনীতির ধারায় বন্দী হতে দিতে পারি না। এরা নিজেদের স্বার্থে জনগণের ইস্যু ধামাচাপা দিয়ে নানা মুখরোচক ইস্যু হাজির করায়। জনগণকে এসব কাজে ব্যস্ত রেখে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। মানুষের স্বার্থ হয় উপেক্ষিত। অনেক সময় আমাদেরও ছুটতে হয় এসবের পেছনে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সচেতন প্রয়াস সময়ের দাবি। সিপিবিকে সেই দায়িত্ব পালনে অগ্রণি ভূমিকা নিতে হবে। তাই নিজেদের সুনির্দিষ্ট কাজকে প্রাধান্য দিয়ে, নিজেদের ইস্যুকে সামনে এনে জনগণকে সচেতন, সংগঠিত করতে হবে। জনগণকে সংগ্রামে সামিল করার মধ্য দিয়ে গণজাগরণ, গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে শাসকগোষ্ঠীর সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় সমাজতন্ত্র অভিমুখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।