প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়, লাভজনক দাম নিশ্চিত করার দাবি

Posted: 02 মে, 2021

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ১-৭ মে কৃষকদের জন্য ‘দাবি সপ্তাহ’ ঘোষণা করেছে। ২৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাড. এস এম এ সবুর ও সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এই ‘দাবি সপ্তাহ’ ঘোষণা করেন। এই সপ্তাহে কৃষক সমিতির জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো করোনা পরিস্থিতিতে প্রণোদনা হিসেবে প্রান্তিক কৃষক ও গ্রামীণ মজুরদের বকেয়া ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ করা, হার্ভেস্টার-রিপার মেশিন দিয়ে গরিব কৃষকদের ধান কাটার ব্যবস্থা করা, প্রকৃত উৎপাদক কৃষকের তালিকা হালনাগাদ করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কৃষি কার্ড প্রদান, ফসল উৎপাদনে কৃষককে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান, লটারি সিস্টেম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে অস্থায়ী ধানের গুদাম নির্মাণ ও সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু, ধান বিক্রির টাকা কৃষককে নগদ পরিশোধ করা, মোট উৎপাদনের ২০% ধান সরকারিভাবে ক্রয় করা, বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিতে ডিসি ও ইউএনও কার্যালয়ে মানববন্ধন-ঘেরাও-বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ করছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মাহামারির এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বোরো ধান কাটার জন্য এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিকদের যাতায়াতে পরিবহন সংকট ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবে ধান ক্রয় অনিয়ম-দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে প্রকৃত উৎপাদক কৃষক সরকারিমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছে না। ধানের মূল্য নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চাল কল, চাতাল মালিক ও সরকার দলীয় সিন্ডিকেটগোষ্ঠী। ইউনিয়ন পর্যায়ে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা না থাকা ও বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকায় কৃষকরা ফরিয়াদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অধিকাংশ প্রকৃত উৎপাদক কৃষক কৃষি কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করতে পারছে না। এক্ষেত্রে নানানভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা কৃষকদের সংগঠিত করে সারাদেশে দাবি সপ্তাহ সফল করার আহ্বান জানান।