আমেরিকার সঙ্গে দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটরি বিক্ষোভ মিছিল একতা প্রতিবেদক :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার পুরানা পল্টন মোড় থেকে নবাবপুর পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি অসম বাণিজ্য চুক্তির জালে বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলা হয়েছে। কার্যকর হওয়ার আগেই এ চুক্তি বাতিল করতে হবে।
গত ৩০ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরানা পল্টন মোড় থেকে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির উদ্যোগে চুক্তি বাতিলের দাবিতে এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রাপূর্ব সমাবেশে দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বক্তব্য রাখেন, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, কন্ট্রোল কমিশন সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জামশেদ আনোয়ার তপন, ত্রিদিব সাহা, সদস্য হযরত আলী, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল প্রমুখ।
সমাবেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, যখন খসড়া এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (টঝঅজঞ) নিয়ে কাজ চলছিল, তখন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যেনতেন প্রকারে দ্রুত এবং গোপনে চুক্তি স্বাক্ষরে অতিতৎপর ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি এনবিআরের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খসড়া টঝঅজঞ নথি কয়েকজনের সঙ্গে আদান-প্রদানের অভিযোগ এনে, তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।
একজন নিরীহ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খসড়া চুক্তির নথি ফাঁসের তথাকথিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টার অতিউৎসাহী ও অতিসক্রিয় ভূমিকা তার বিরুদ্ধে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ জোরালো করেছিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সকলকে অবাক করে তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং ঘোষণা করেছেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জাতীয় সংসদের নেতা এবং বিরোধী দলীয় নেতা উভয়ের সম্মতি ছিল। এখন পর্যন্ত সরকারি দল যার প্রতিবাদ করেনি।
জলি তালুকদার অভিযোগ করেন, ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করে এটাই মনে হয়, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ সকলে মিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে কবর দিয়েছে।
সমাবেশে সিপিবির কন্ট্রোল কমিশন সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ বলেন, মার্কিন চুক্তিতে যেসব নন-ডিসক্লোজার ক্লজ রয়েছে তা এই চুক্তিকে অসম ও জবরদস্তিমূলক মুচলেকায় পরিণত করেছে। এটি একটি অধিনতার দলিল, যা স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বিলীন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষজ্ঞ দল একতরফাভাবে এই চুক্তির খসড়া করেছে এবং বাংলাদেশ সরকার কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়া, অনুগত হয়ে তা স্বাক্ষর করেছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মর্ম হলো, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্য কোনো পক্ষের সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ব্যতিত কারো সাথে কোনো চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না। কৃষি-খাদ্যসহ রফতানিমুখী পণ্যের কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে বাধ্য থাকবে। জ্বালানি আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন অন্য কোনো উৎসের দ্বারস্থ হতে পারবে না।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক এই দাসত্বমূলক চুক্তি স্বাক্ষরকে চক্রান্তমূলক ও দেশবিরোধী অপকর্ম। এই চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না। ফলে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বেই তা বাতিল করতে হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পন্ন অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল না করা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
পরে পদযাত্রা চলাকালে পল্টন মোড়, শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার, রমনা ভবন, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল, নবাবপুর মোড়, গুলিস্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।