
একতা প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) প্রয়াত সভাপতি, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর শীর্ষ নেতা, পাটকল আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা ২ জানুয়ারি- বিকাল ৩টায় রাজধানীর ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম অডিটরিয়ামে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) কর্তৃক আয়োজিত উক্ত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি প্রবীণ শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম। স্মরণসভায় প্রয়াত নেতার সংগ্রামী জীবনের উপর স্মৃতিচারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, প্রয়াত নেতার ছেলে মনিরুল ইসলাম চৌধুরী রনি, টিইউসির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মন্টুু ঘোষ, ইদ্রিস আলী, হাফিজুল ইসলাম, আজিজুর রহমান আজিজ, জালাল হাওলাদার প্রমুখ।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা, শিল্প সম্পর্ক এবং অর্থনীতির বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকরাও সহিদুল্লাহ চৌধুরীর নিকট থেকে অনেক কিছু শিখেছি। নীতিতে দৃঢ়, কৌশলে নমনীয় এবং আচরণে তার বিনয়ী ও উন্নত মানবিক গুণাবলী এদেশের অসংখ্য মানুষকে মানবমুক্তির সংগ্রামে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। শ্রেণী সচেতন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের পাথেয় হিসেবে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন তিনি। সহিদুল্লাহ চৌধুরীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে বিশেষভাবে ভাবতে হবে যে, মানবসৃষ্ট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেন কতিপয় পুঁজিপতির মুনাফা ও শোসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না হয়ে পিছিয়ে পড়া অধিকার বঞ্চিত শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের কল্যানে ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহৃত হয়।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকের উন্নত জীবন, শিল্পের অগ্রগতি এবং উৎপাদন ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে সহিদুল্লাহ চৌধুরীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমাদের অঙ্গীকারকে শানিত করে। শ্রমিক, মালিক ও বিশেষজ্ঞদের ঐক্যবদ্ধ শ্রম ও চিন্তার সমন্বয়ে প্রণীত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমিশন গঠন, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সংগ্রামে সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সংগ্রামী জীবন আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প কারখানা চালু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
টিইউসির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মজুরি দাসত্ব থেকে শ্রমিক শ্রেণিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে সহিদুল্লাহ চৌধুরীরা টিইউসি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাদের স্বপ্ন, নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রামে টিইউসি অবিচল থাকবে। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনকারী এই সংগঠন এবং স্কপ বন্দর রক্ষা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমিক নেতা মহাবুব আলম বলেন, সরকারগুলোর ভুলনীতি, দুর্নীতি এবং বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর প্রেসক্রিপশনে আমাদের দেশের রাষ্ট্রায়াত্ত্ব খাত ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তিনি শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব শিল্প কারখানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।