প্রত্যাবাসন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : চলতি বছরের মে মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ উপদেষ্টাকে পাশে বসিয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের উচিত মিয়ানামরের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করা, সংলাপে বসা। সেইদিন তার পাশে বসেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তখন অনেকেই প্রমাদ গুনেছিলেন। কিন্তু এতবড় একজন বিশ্বনেতা একটা কথা বলেছেন, তার নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্ব আছে? যদিও এর পরে সরকার অনেক হাঁকডাক দিলেও বাংলাদেশ থেকে এখনও একটা রোহিঙ্গাও মিয়ানামারে যায়নি। তবে কি কথা রেখেছে, আরাকান আর্মি? তারা তো এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে নাকি আবার রোহিঙ্গাও আছে। তাহলে আর কী! বাংলাদেশে জেলেদের অপহরণের সঙ্গে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদেরও প্রত্যাবাসনের কাজও করে দিচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের কথা! ফেলে দেবে কীভাবে? এ কারণে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। বিভিন্ন সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫৮ জেলে আরাকান আর্মির কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। এটা যে শুধু অগাস্ট মাসেই ঘটেছে, তা নয়। বরং গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মি ২৪৪ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জেলে এবং ২৭টি ট্রলার-নৌকা ফেরত আনা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ২৯ আগস্ট আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমানে বাংলাদেশের সমস্যা হলেও আগামী ৭-৮ বছরে তা আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে। ৮ বছর ধরে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী শরণার্থী শিবিরে কোনো আশা ছাড়া বেড়ে উঠছে। তারা একসময় স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে, যা বড় সমস্যার জন্ম দেবে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..