‘ক্ষতি ও পূরণ’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : এইবার একটা সুরাহা হল বটে! একেবারে ‘করিৎকর্মা’ সরকার ও প্রশাসন হলে যা হয় আরকি! ‘ক্ষতির’ সঙ্গে সঙ্গে ‘পূরণ’। এখন থেকে আর কোনো চিন্তা নেই। যেখানেই ‘ক্ষতি’ হবে, তখনি ‘খ্যাতিমানরা’ ‘পূরণ’ নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন। দীর্ঘদিনের গবেষণা ও কৌশলী উদ্ভাবনের পর এমন একটা আবিষ্কার বাস্তব পৃথিবীকে বাংলাদেশ দেখাতে পারল। আর এতে করে শুধু যে বাংলাদেশ বেঁচে গেল তা তো নয়; গোটা পৃথিবী হাঁফ ছেড়ে বেঁচে গেল। পরিবেশ বলে কথা না! এই যে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ এলাকা থেকে গত এক বছর ধরে ইচ্ছামত পাথর চুরি করেছে লুটেরারা। বলা যায়, একেবারে ‘জাতীয় ঐক্যমত্যের’ ভিত্তিতে এই চুরি হয়েছে। রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের লোক, ব্যবসায়ী কেউ বাদ যায়নি এই পাথর খাওয়া থেকে। শত শত কোটি টাকার পাথর খেয়ে নদীকে একেবারে ফকফকা করে দিয়েছে। মানুষজন তখন চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল, সাদাপাথর একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারি লোকজন নাকি দেখেও না দেখার ভান করেছে। কী করা যায়, কী করা যায়? প্রশাসন দেখিয়ে দিল কী করা যায়! যেখান থেকে পাথর লুট হয়েছে, সেখানেই আবার পাথর ফেলা শুরু করেছে। সরকার ও প্রশাসন পাথর চোরদের একটা বিরাট শিক্ষাও দিয়ে দিয়েছে। যতই পাথর চুরি কর, আবার জায়গামত চলে যাবে, হে হে হে। ঠিক একই রকমভাবে এখন, যেসব জায়গায় পাহাড়ের মাটি তুলে খেয়ে ফেলা হয়েছে। সেই জায়গায় ট্রাক ট্রাক মাটি ফেলে আবার পাহাড় বানিয়ে ফেলা হবে। যেসব নদী খেয়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে বালতি বালতি পানি ঢেলে আমরা প্রবল স্রোতস্বীনি তৈরি করে ফেলব। পারবে পৃথিবীর আর কোনো দেশ অভিনব এই পদ্ধতি আবিষ্কার করতে? পারবে না। ফলে এই অভিনব পরিষ্কারের মাধ্যমে সুজলা-সফলা-শস্য-শ্যামলা ধরার পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের আবার একটা পদক কি দাবি করতে পারি না?

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..