মার্কিনের সঙ্গে দেশবিরোধী গোপন চুক্তি বাতিল ও জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন চালু করার চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে রাজধানীতে সিপিবির বিক্ষোভএকতা প্রতিবেদক :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী গোপন চুক্তি বাতিল, রাখাইনের জন্য করিডোর দেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধ, বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন চালু করার চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
গত ২৪ জুলাই বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক লুনা নূর।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে জনগণকে অন্ধকারে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশবিরোধী গোপন চুক্তি করেছে যা দেশবাসী কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের অফিস চালুর যে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তা বন্ধ করার জোর দাবি জানান।
সিপিবি নেতারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ ভেবেছিলো স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে করা বিভিন্ন দেশের সাথে গোপন চুক্তি জনগণের সামনে উন্মুক্ত হবে এবং তা বাতিল হবে। আমরা দেখেছি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তা এখনো অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখতেয়ার বহির্ভূতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন চুক্তি করেছে ও জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশন চালুর অনুমতি দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে। এসব কাজ করার জন্য বাংলাদেশের জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতায় বসায়নি। সিপিবি মনে করে দেশবাসীর সমর্থন ছাড়া এই ধরণের তৎপরতার ক্ষেত্রে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে অরাজক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন ঘটছে না। আর সরকার নানা ধরণের দেশবিরোধী চুক্তি করে চলেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে দেশ ধীরে ধীরে সাম্রাজ্যবাদের খপ্পরে পরে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ আমাদের দেশে শুল্ক আরোপ করে দেশের অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেন সিপিবির নেতৃবৃন্দ।
এ সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের জনগণকে এ ধরনের চক্রান্ত প্রতিরোধে শামিল হবার আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব থেকে পল্টন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পল্টন মোড়ে এসে- মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের স্মরণে নিরবতা পালন করে।