গণতন্ত্র কায়েমের লড়াইয়ে বাম গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব অপরিহার্য
ডা. সাজেদুল হক রুবেল
রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে, বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের অনিশ্চিত এক বাঁকে দাঁড়িয়ে। স্বতঃস্ফূর্ত এক মহেন্দ্রক্ষণে চব্বিশের আগস্টে মানুষের মাঝে নতুন করে বুনে দিয়েছিল বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি আইনের শাসনের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। স্বতঃস্ফূর্ততার ইতিবাচকতার পাশাপাশি থাকে বিপদাপন্ন হবার ঝুঁকি। বিদ্যমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই সম্মুখীন।
অভ্যুত্থানের পরবর্তী যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলো, তার প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে ছুরিকাঘাত করলেন, অভ্যুত্থানের প্রকৃতিকে - অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে।
‘ম্যাটিকুলাস প্ল্যান, ওয়েল ডিজাইন’ ইত্যাদি তকমা লাগিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিলেন। যদিও এর পূর্বে রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মনে আঁচড় কেটে দিয়েছিলেন নোবেল লরিয়েট আরেকটি আপত্তিকর সম্বোধন উচ্চারণ করে। আন্দোলনকারী নেতৃত্বের প্রস্তাবনায় প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণে রাজী হয়ে, প্যারিস অলিম্পিক থেকে ফিরে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে জুলাই আগস্টের অভ্যুত্থানকে বলে বসেছিলেন ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’।
যাত্রার শুরুতেই হোঁচট খেলেও মানুষ আশা ত্যাগ করেননি। মানুষের অপেক্ষা ছিল দেশ ভালোর দিকেই যাত্রা করবে। অন্তত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু হবে। ফিরে পাওয়া যাবে বাকস্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। শ্রমিকের মানুষ হয়ে বাঁচার জন্য ন্যূনতম মজুরি, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য। কিন্তু আজ গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সেসব না পাওয়ার বেদনাই মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। সহস্র জীবনের বিনিময়ে যে বিজয় অর্জিত হয়েছিল, তা পুনরায় রাষ্ট্রের শ্রেণি চরিত্রের কাছে প্রতিনিয়ত পরাস্ত হতে চলেছে। বেহাত হতে চলেছে গণমানুষের উত্থান।
কারা, কেনও, কিভাবে অভ্যুত্থানকে বেহাত করতে চলেছে, তা সচেতনভাবে উপলব্ধি করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পরেছে। একদিকে আছে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদীদের তল্পিবাহক আরেকদিকে দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। এরাই আজ সবটা কেড়ে নিতে চায়। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন-ই এদের লক্ষ্য। দেশকে শুধু নিউ লিবারেল ইকোনমির শেকলে বেঁধে রাখা নয়, বাংলাদেশকে বিপদজনক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়াই আজ তাদের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি দেশে ধর্মবাদী নয়া এক ফ্যাসিবাদ কায়েমের পায়তারা চালাচ্ছে। বিপরীতে বাম গণতান্ত্রিক শক্তি কিংবা দেশপ্রেমিক মানুষের শক্তি যথাযথ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে এখনো দাঁড়ায় নাই।
স্বতঃস্ফূর্ততা নয় সচেতন বিপ্লবী সংগঠিত শক্তি একটি দেশকে,দেশের মানুষকে ও রাজনীতিকে কাক্সিক্ষত ও আমূল-পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম করে।
২৪ এ গণমানুষ রাজপথে নামলে পরাক্রমশালী রেজিমের পতন ঘটে। আবার আমরা এ শিক্ষাও পাই শ্রেণি সচেতন রাজনৈতিক নেতৃত্ব না থাকলে রেজিম বদলায় সিস্টেম বদলায় না।
সিস্টেম বা ব্যবস্থা বদলের লড়াইয়ে আজ অপরিহার্য বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য। বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে গণতন্ত্র কায়েমের লড়াইয়ে নামতেই হবে। এ লড়াইয়ে অগ্রসর ও বিজয়ী হয়ে দেশে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির সরকার গড়তে হবে। তথাকথিত লিবারেল, শাসক শ্রেণির অন্যকোন অংশের উপর ভর করে নয়। দেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ, নিপীড়িত সম্প্রদায়, জাতিগোষ্ঠীর মুক্তির লড়াইকে ভিত্তি করেই বামপন্থিদের দেশের নেতৃত্ব নেওয়ার যুদ্ধে অগ্রসর হতে হবে।
প্রথম পাতা
কদমতলী ও শ্যামপুরে ফিরোজ আলম মামুন
ইতিহাসের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হতে নির্বাচনি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ুন
ঢাকা-৮ এ ত্রিদ্বীপ সাহা
ভোট দিন কাস্তে মার্কায়
ঢাকা-১২ এ কল্লোল বনিক
নারায়ণগঞ্জ-৫ এ মন্টু ঘোষ
গোল্ড ফিশ
সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দে আনোয়ার হোসেন রেজা
যাত্রাবাড়ি ও ডেমরায় তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা দিপু
লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করুন
ঢাকা-৯ এ মনিরুজ্জামান মিলন
রমজানের আগেই চড়া বাজার
ঢাকা-১৪ এ রিয়াজউদ্দিন
মিরপুর ও কাফরুলে সাজেদুল হক রুবেল
কাপাসিয়ায় মানবেন্দ্র দেব
Login to comment..








প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন