সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে আদিবাসী ইউনিয়ন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. দিবালোক সিংহএকতা প্রতিবেদক :
আসন্ন ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হবে, যার ৬০% সমতলে এবং ৪০% পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক বরাদ্দ ও দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
আদিবাসীরা চরম বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার। তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ আদিবাসী জনগোষ্ঠী জাতীয় নীতিমালা ও বাজেট কাঠামোর প্রান্তে অবস্থান করছে। এক্ষেত্রে বাজেট হতে হবে, আদিবাসীবান্ধব-ন্যায্য-প্রয়োজনভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
গত ৩০ মে সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের উদ্যোগে ‘সমতলের আদিবাসীদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের ধারণাপত্রে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।
শহীদ আলফ্রেড সরেনের বোন আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ধারণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো ও আদিবাসী নেতা হিমেল হাজং। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ডাক্তার দিবালোক সিংহ।
উপদেষ্টা ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, এদেশে আদিবাসী মানুষের জীবন নানা রকম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। সমতলের ৮০% আদিবাসী দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। বাজেটে যে বরাদ্দ তা অপ্রতুল, যে সব প্রকল্প হাতে নেয়া হয় তার বেশিরভাগই তাদের স্বতন্ত্র চাহিদা, সাংস্কৃতিক বাস্তবতা ও মানবাধিকার বিবেচনায় আনেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিতে দুর্নীতি-লুটপাট চলে। এক্ষেত্রে আদিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে জবাবদিহীতামূলক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি পরিচালিত করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- এ বছরের বাজেট গতানুগতিক যেন না হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দিকে নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে, সুপারিশ ও দাবিসমূহ তুলে ধরে বলা হয়, ১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখাতে দরিদ্র আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্তিসহ তাদের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আদিবাসী তরুণদের জীবিকায়ন ও কর্মসংস্থানে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। জাতীয় বাজেটে বাঙালি, পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসীদের বাজেট বৈষম্য নিরসন করতে হবে। ভূমিহীন আদিবাসীদের খাসজমি বন্দোবস্ত এবং পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ দিতে হবে। জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য পৃথক অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হবে এবং বাজেট বরাদ্দ খাত সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করার দাবি জানান নেতারা।
পার্বত্য চট্রগ্রামসহ সমতলের আদিবাসী গারো, হাজং, কোচ, বর্মন রাজবংশী, সাঁওতাল, মাহাতো, পাহান, মাহালি, মুন্ডা, পাহাড়িয়া, মালো, বাগদীসহ অন্যান্য যারা আছেন তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বর্তমান সরকার বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে বলে জানা যায়।