যুদ্ধাপরাধী আজহারুলের ‘বেকসুর’ খালাস

সরকার ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক: বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভা থেকে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতাকারী, আলবদর, আলসামস বাহিনী গঠন করে হত্যা, খুন, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ মানবতা বিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের সকলের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ সময় পরে হলেও যাদের বিচার হয়েছে তাদের সকলের রায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে কার্যকর করেনি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার বিগত আমলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা আজহারুল ইসলামের সেই রায় বাতিল করে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়ায় দেশবাসীর মনে প্রশ্ন বর্তমান সরকারের সময়েও বিচার বিভাগ কী স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে? দেশের সর্বত্র সামগ্রিক অরাজক পরিস্থিতি ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী রাজাকার এটিএম আজহারুল ইসলামের বেকসুর খালাস পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বামজোটের নেতারা বলেন, দেশে শাসন ক্ষমতার কেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরা সমাবেশ বিক্ষোভ করছে। পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা ধর্মঘটে। এনবিআর এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলম বিরতি পালন করছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ ও ফরমায়েসী রায়ের দরবারে পরিণত করে জনগণের আস্থাহীনতায় পর্যবসিত করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল দেশে গণতান্ত্রিক আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু সর্বত্র সার্বিক অরাজক পরিস্থিতি দেখে দেশবাসী এমনিতেই উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্থ এই ভেবে যে, এত রক্তপাত, আত্মত্যাগের পরেও কি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যাবে? নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে যেমন বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে, গণগ্রেপ্তার, গায়েবী মামলা, গণহারে আসামী করে ফরমায়েসী রায়ে নাগরিকদের হয়রানি করা হয়েছে, জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পুরে রাখা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে গণহত্যার জন্য প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে মামলা না করে ঢালাও গণহারে মামলা দিয়ে বাস্তবে বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল বা প্রকৃত অর্থে বিচারকে অস্বীকার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঢালাও গণমামলার আসামীদের কাছ থেকে পুলিশ ও কিছু রাজনৈতিক দলের লোকজনকে চাঁদাবাজির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিগত আমলে যেমন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় গণহারে সকলের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বেশ কিছু মামলায় সকলকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিচার ও আইনের শাসন সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা, অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে যা- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তোরণের পথে এক অশনি সংকেত। নেতৃবৃন্দ দেশে গণতন্ত্রের স্বার্থে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রশ্নে একাত্তরের গণহত্যকারী ও তাদের সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ২৪ এর গণহত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করার দাবি জানান। বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)-র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী গত ২৭ মে সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। নেতৃবৃন্দ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে ভুলিয়ে দিয়ে ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে যে সকল অপশক্তি তৎপর রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এবং ’৭১ এর গণহত্যাকারী ও ২৪ এর গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রথম পাতা
শ্রমিক স্বার্থের অঙ্গীকার ইশতেহারের কাগজে নয়, বাস্তবায়ন চাই
ষড়যন্ত্র গুজব চক্রান্ত মোকাবেলা করে নির্বাচনে অন্ধকারের শক্তিকে পরাভূত করতে হবে
নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে অন্তর্বর্তী সরকার ঃ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট
পরিবেশের সমস্যার সফল সমাধানে কেবল নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়
২০ জানুয়ারি : ফিরে ফিরে আসে রক্তশপথের দিন
বাংলাদেশের ক্রিকেটে কী ঘটছে?
‘অবাক বিস্ময়’
মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মিছিলে বাধা
উদীচীর কার্যালয় পুনর্নির্মাণ করা হবে জনগণের সহযোগিতায়
মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ : ছাত্র ইউনিয়ন

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..