বাগেরহাট সংবাদদাতা :
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন পিন্স বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দুস্কৃতকারী দ্বারা পুড়িয়ে দেয়া ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি ও সংগ্রহশালা, ক্ষতিগ্রস্থ বসতবাড়ি, বাজার, শিশুপার্ক, ধর্মীয় উপসনালয় পরিদর্শন করেছেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্থরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভয়াবহ সংহিসতার চিত্র তুলে ধরেন। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “হায়নাদের অপকর্মের চিহ্ন হিসাবে এই পোড়া লাইব্রেরীতে পোড়া বই-পত্র রেখে নতুনভাবে লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। যা দেখে ভবিষ্যতে মানুষ দুস্কৃতিকারীদের ঘৃণা করে।’
এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতিদিন রাতে এলাকাবাসীর পাহারা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সমবেত এলাকাবাসীর সামনে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা দলমত, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে মানবিক মানুষ পরিচয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা বসতবাড়ির পাশাপাশি লাইব্রেরির বইপত্র, ছবি, একতা পত্রিকাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা, গল্প-কবিতা-প্রবন্ধের পান্ডুলিপি পুড়িয়ে বাংলার ঐতিহ্য শিল্প-সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালেও যে চিতলমারী মুক্তাঞ্চল ছিল, এখানের মানুষ এখন রাতভয় আতঙ্কে দিন পার করছে। এটা আশা করিনি। এলাকাবাসী সংঘবদ্ধভাবে ওদের (দুস্কৃতকারী) প্রতিহত করুন।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করুন। এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দেখুন– কী ভয়াবহ অবস্থা। স্থানীয় প্রশাসনকে সরব হয়ে আইনী ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুড়িয়ে দেওয়া সিপিবি চিতলমারী শাখার সম্পাদক কবি পংকজ রায়ের পৈত্রিক বসতবাড়ি, লাইব্রেরি, সংগ্রহশালা, চরবনিয়ারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শিশুপার্ক, খাসের হাট বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ওষুধের দোকান, বাসাবাড়ি পরিদর্শন করে এলাকার মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য কাজী সোহরাব হোসেন, বাগেরহাট জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাড. তুষার কান্তি বসু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ফররুখ হাসান জুয়েল, চিতলমারী উপজেলা সিপিবির সভাপতি খান সেকেন্দার আলী, বেলাল হোসাইন বিদ্যা, মৃন্ময় মণ্ডল, যুব নেতা শেখ কবীর হোসেন, ছাত্র নেতা আরিফুল ইসলাম সজিব, খুলনা জেলা সিপিবির নেতা অ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী প্রমুখ।