বিপাকে বাওয়ালি ও গোলপাতা ব্যবসায়ীরা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : একসময় ঘরগুলো সাজানো হতো গোলপাতা দিয়ে। সীমানা টানা হতো গোলপাতা প্রাচীর দিয়ে। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ছিলো এর প্রচলন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে টিনের ব্যবহার কমেছে গোলপাতার ব্যবহার। আধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেলে বদলায়নি বাপ-দাদার আমল থেকে কাজ করে আসা বাওয়ালি আর গোলপাতা ব্যবসায়ীদের জীবনযাপন। তাদের জাতপেশা এখন হারানোর পথে। সময়ের আবর্তনে দৃশ্যপট বদলে গেছে। শহুরে জীবনের সংস্কৃতিতে ভরে গেছে গ্রাম। সর্বত্র টিন এর ব্যবহার। তবুও সুন্দরবন অঞ্চলস্থ স্থানীয়রা এখনো ধরে রেখেছে তাদের বাপ-দাদার পেশা। সম্প্রতি কিছুদিন আগে থেকে শুরু হয়েছে গোলপাতা সংগ্রহের কাজ। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আর লাভবান না হওয়ার শঙ্কা এবারও। জানুয়ারির শুরু থেকে মার্চের শেষ মৌসুমের দিকে চলে এলেও সুন্দরবনে যারা গোলপাতা সংগ্রহ করেন (বাওয়ালি) তারা গোলপাতা কেটেও কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। এ কারণে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। গোলপাতার চাহিদা কমে যাওয়ায় বাওয়ালিদের সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন গোলপাতা ব্যবসায়ীরাও। খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের সুতারখালী এলাকার বাসিন্দা বাওয়ালি জয়া সানা সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাতে বলেন, গোলপাতার দাম এখন খুবই কম। বলতে গেলে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কাউন ২৪-২৫শ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সুন্দরবনের পাস পারমিট নিয়ে শ্রমিক খাটিয়ে গোলপাতা কেটে এনে বিক্রি করে যে টাকা খরচ হয় তাও ওঠে না। এই ব্যবসা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম কাওসার বলেন, সুন্দরবন থেকে গোলপাতা কেটে এনে খরচই ওঠে না। বাজারে গোলপাতার কদর নেই, বিক্রি করতে গেলে দাম দেয় না। টিনের প্রচলন এখন বেশি। এসব কারণে খুব কম সংখক লোক বাপ-দাদার আদেশে এখনো জাত (বাওয়ালি) পেশায় রয়েছে। একাধিক বাওয়ালি বলেন, প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে রাজস্ব ছিল ২৫ টাকা। আর তা বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। সে হিসাবে বড় একটি নৌকায় পাস পেতে ১৩ হাজার টাকা রাজস্ব দিতে হচ্ছে। শ্রমিকের খরচও অনেক বেড়েছে। আগে মাসে ৫/৬ হাজার টাকায় একজন শ্রমিক পাওয়া যেতো, আর এখন ২০ হাজার টাকা লাগে। এক নৌকা গোলপাতা আনতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। পেশা টিকিয়ে রাখতে এখনও বনে যাচ্ছি। গরানের অনুমতি মিললে আমরা টিকে থাকতে পারতাম। এছাড়া রাজস্ব মওকুফের দাবি জানান তারা। খুলনার সোনাডাঙ্গা এম এ বারি সড়কের গোলপাতা বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে প্রতি পোন গোলপাতা বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকা দামে। তবে দাম কমবেশি উঠানামা করে। জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার লোকদের ঘরের চাল ছাওয়ার জন্য গোলপাতা ব্যাপক ব্যবহৃত হত। গ্রাম-গঞ্জের বেশির ভাগ ঘরের চাল ছাউনীতে এখন টিন কিংবা এ্যালবেস্টারের ব্যবহার হচ্ছে। এদিকে গোলপাতার চাহিদা কমলেও আহরণ খরচ বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। টিন বা এ্যালবেস্টারের চেয়ে তুলনামূলক টেকসইও অনেক কম। ফলে টিন কিংবা এ্যালবেস্টারের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে আর গোলপাতার কদর কমেছে। ফলে প্রতিবছর ক্রমাগতভাবে গোলপাতা আহরণ কমছে, ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম নেই কেউ কদরও করে না। অথচ এই দেশীয় সম্পদ থেকে একসময় অনেক রাজস্ব আয় হতো। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঢেউটিন তুলনামূলক সস্তা তার ওপর টেকসহী তাই গোলপাতার চাহিদা কমে গেছে। এর কারণে বাওয়ালিরা এখন গোলপাতা কাটতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
শেষের পাতা
সরকার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কর্মসংস্থান উচ্ছেদ শুরু করেছে
ভোটাধিকার হরণ করে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করছে
ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে
আশুগঞ্জ সেচ প্রকল্পে পানি সরবরাহের দাবি
গাইবান্ধায় আবারও বাম জোটের পথসভায় পুলিশের বাঁধা
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ও মদদদাতা পুলিশের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ঘোষণা
সারাদেশে সিপিবির শাখা সম্মেলন চলমান
কমরেড দুলাল কুন্ডু সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন
ধর্ষণের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি ক্ষেতমজুরদের
আইনজীবীদের সমস্যা সমাধানে আন্দোলন গড়তে হবে
৭ দিনের সংবাদ...

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..