তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ১১ বছর

আজও বিচার হয়নি খুনী মালিকের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

তাজরীন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
একতা প্রতিবেদক : ২৩ নভেম্বর ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডের ১১ বছর। এগারো বছর আগে এই ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে অন্তত ১১৯ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান। আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক। পরবর্ততীতে আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৪ জন শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা দুঃখকষ্টে মৃত্যুবরণ করেন। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য ঘটনার পরপরই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি অনুসন্ধানেই মালিক-কর্তৃপক্ষের শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ে সার্বিক অবহেলার চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তকমিটির প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই প্রতিবেদনের সুপারিশমালায় বলা হয়,...... এত বিপুল মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য মালিকের অমার্জনীয় অবহেলাই দায়ী। এটি সুস্পষ্টভাবে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর অপরাধ। তাই তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড এর মালিককে দন্ড-বিধির ৩০৪ (ক) ধারায় আইনের আওতায় এনে বিচারে সোপর্দ করার সুপারিশ করা হল। এই পরিপ্রেক্ষিতে মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়। একটি মামলা দায়ের করেন একজন নিখোঁজ শ্রমিকের ভাই। আশুলিয়া থানার পুলিশ বাদী হয়ে অপর মামলাটি দায়ের করে। কিন্তু আজো এর বিচার হয়নি, তা এখনো চলছে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার পেছনে মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের দায়সারাপনা দায়ী। বাস্তবে আর তো বিচারব্যবস্থা মালিকস্বার্থ রক্ষায় সদা সক্রিয়। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষী, তাজরীনের ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মতে এ অনীহা এই ব্যবস্থার সাথে শ্রমিকের শ্রেণিগত দূরত্বের স্মারক। নিহত শ্রমিকের আত্মীয়-পরিজন বিলাপ করে বলেছেন– বড়লোকের আদালতে গরীবের জীবনের কি দাম আছে?” “কার কাছে, কিসের বিচারের আশা!” “মালিকের কি বিচার হয়?” এই মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামী কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী মাহামুদা আখতারসহ ৯ আসামীর উপস্থিতিতে শুনানি হয়। উল্লেখ্য ২০২০ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকেরা টানা ৮৭ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তিনদফা দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ৭ই ডিসেম্বর ২০২০ সালে ভোর বেলা পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত শ্রমিকদের রাজপথের অবস্থান থেকে উচ্ছেদ করেন। তাঁদের তিন দফা দাবিগুলো ছিলো: শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে নিহত ও আহত সকল শ্রমিকের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ; আহত শ্রমিকদের যথাযথ পুর্নবাসন এবং আহত শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকাৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা। দীর্ঘসূত্রিতার পথ বেছে নেয়া বিচার প্রার্থী ভুক্তভোগী শ্রমিকসহ সকলকে হতোদ্যম করে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। বিচারকার্য পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের এই কাঠামোগত অবহেলা মালিকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে নির্মমভাবে শ্রমিক হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার তাই এখনো হয়নি, আজৌ হবে কিনা জানিনা।
শেষের পাতা
সরকার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কর্মসংস্থান উচ্ছেদ শুরু করেছে
ভোটাধিকার হরণ করে সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করছে
ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে
আশুগঞ্জ সেচ প্রকল্পে পানি সরবরাহের দাবি
গাইবান্ধায় আবারও বাম জোটের পথসভায় পুলিশের বাঁধা
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ও মদদদাতা পুলিশের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ঘোষণা
সারাদেশে সিপিবির শাখা সম্মেলন চলমান
কমরেড দুলাল কুন্ডু সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন
ধর্ষণের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি ক্ষেতমজুরদের
আইনজীবীদের সমস্যা সমাধানে আন্দোলন গড়তে হবে
৭ দিনের সংবাদ...

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..