শ্রমিকদের নিজেদের কথা

কে এম মিন্টু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
দ্রব্যমূল্য ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি করে ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিলেন। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় না নিয়ে গত ৭ নভেম্বর মজুরি বোর্ড ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করেন। শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুর, মিরপুর, উত্তরা, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে স্থানীয় মাস্তান ও পুলিশ মিলে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায় এবং পুলিশ শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়, পুলিশের গুলিতে একজন নারী শ্রমিক সহ ৪ জন শ্রমিক নিহত হয় এবং হাজার হাজার শ্রমিক আহত হয়। আন্দোলনের মুখে গাজীপুর, মিরপুর, উত্তরা, আশুলিয়ায় প্রায় ৮০০ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে এবং শ্রমিকদের নামে ৪০টি মামলায় প্রায় ২০ হাজার জন শ্রমিককেকে আসামী করা হয়েছে। এক দুইদিন পর কারখানা চালু হলে ভিডিও ফুটেজের কথা বলে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে। শ্রমিকদের বাসায় বাসায় গিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে কাওকে রিমান্ডে এনে নির্যাতন করা হচ্ছে। আহত শ্রমিকরা পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার এ এম ডিজাইন লিমিটেড এর সুইং অপারেটর চায়না খাতুন বলেন, আমরা ২৩ হাজার টাকা বেতন দাবি জানিয়েছি কোন ভাঙচুর করিনি অথচ আমাদের কারখানায় ৪১ জন শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, আমাদের মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে আমারা যা বেতন পাই তাতে মাসে ১০ দিনো চলেনা, ১২ হাজার ৫০০ টাকায় কিছুই হবেনা আমাদের সেই না খেয়েই থাকতে হবে। কারখানার শ্রমিক লাইলি বলেন, আমরা যে বেতন পাই তাতে পরিবার নিয়ে ঢাকা শহরে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে, ধার দেনা করে আর কত চলা যায়, সন্তানদের ভালোমন্দ কিছু খাওয়াতে পারিনা। বাজারে জিনিসপত্রের যা দাম কোন টা রেখে কোনটা কিনবো তা ভাবতে পারিনা। আমরা ২৩ হাজার টাকা বেতন দাবি করেছি এটাই আমাদের অপরাধ প্রতিদিন রাতে পুলিশ আসছে বাসায় শ্রমিকদের ভয় দেখাচ্ছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে অনেক শ্রমিক বাসায় আছে তারা চিকিৎসা নিতে পারছেন না। আমাদের দাবি একটায় আমাদের বেতন ২৩ হাজার টাকা করা হউক। বর্তমানে জিনিসপত্রের যা দাম তাতে তাতে ২৩ হাজার টাকা বেতন দিলেও চলবেনা তাই পাশাপাশি আমাদের রেশন দিতে হবে। কালিয়াকৈর এর শ্রমিক তানিয়া বলেন, আমাদের পরিবারের ৪ জন সদস্য নিয়ে ২৩ হাজার টাকা বেতনে কিছু হবেনা, গত পাঁচ বছরে ঘর ভাড়া, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন খাওয়া খরচ তিন গুণ বেড়েছে, গ্রাম থেকে চাল-ডাল নিয়ে এসে সংসার চালাতে হচ্ছে। কারখানায় কাজের চাপ বেড়েছে কিন্তু বেতন বাড়েনি। যে কাজ আমরা ঘন্টায় ১২০ পিস করতাম এখন সেটা ১৬০ পিস করি অথচ মালিক আমাদের বেতন বাড়াইনা। কারখানায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলাম তাই আমাদের ছাটাই করার হুমকি দিচ্ছে। কারখানার গেইটে লাঠি নিয়ে মাস্তান বসিয়ে রাখছে। শ্রমিকদের ও শ্রমিকনেতাদের গ্রেফতার, তাদের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং হয়রানি, ছাঁটাই ও নির্যাতন করে আন্দোলন দমন ও শ্রমিকদের মজুরির দাবিকে আড়াল করার যে অপকৌশল, আমরা তার নিন্দা জানাই। নির্যাতন করে, ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের ক্ষুধার আগুন নেভানো যাবে না। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়, শিল্পবিরোধ নিষ্পত্তিতে পুলিশের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..