হারানোর পথে সোনালি আঁশ, দাম পায় না কৃষক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : ধানের দাম নেই, গমের দাম নেই, আখের দাম নেই, পাটের দাম নেই, দাম নেই চাষকৃত সবজির। মানুষ হচ্ছে শহরমুখী। কৃষি কাজ রেখে বেছে নিচ্ছে অন্য পেশা। হারিয়ে যেতে বসেছে কৃষিকাজ। কৃষকের ফসলের লাভজনক দামের দাবি আজকের না, বহুদিনের। কথায় আছে কৃষক বেঁচতেও ঠকে, কিনতেও ঠকে। ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেটের দোটানায় পাল্লা দিতে না পেরে ক্ষতির মুখ দেখতে হয় কৃষককে। নায্য দামের জন্য প্রতিবাদ করলেও পেতে হয় শাস্তি। তার উপর আবার পানি সংকট, সার-বীজ এর অতিরিক্ত দাম, জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রমিক সংকট কত কি। ভর্তুকির নেই কোন যথাযথ ব্যবস্থা। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বহু অঞ্চলে প্রতিবারের মতো এবারও আশা নিয়ে পাট চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। আশা ছিল গতবারের তুলনায় এবার হয়তবা একটু দাম পাবে। লাভ না আসলেও আসলের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিবেন। কিন্তু গতবারের চেয়েও কম দামে বিক্রি পাট করতে হচ্ছে। বিভিন্ন দৈনিকের খবরমতে, রংপুর অঞ্চলের ৭৫ হাজার পাটচাষিকে পাট চাষ করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। হতাশ হয়ে অনেকেই আগামীতে পাটচাষ না করার কথা ভাবছেন। ‘বাজারে পাটের দাম নেই, খরচই উঠছে না’ ‘কষ্ট করে পাট চাষ করে কী লাভ’ ‘চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা’। গতবছর পাট চাষের জমির পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৬২৭ হেক্টর। রংপুর অঞ্চলে এ বছর পাটের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। সারাদেশে এ বছর পাট চাষ হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পাট উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে, এ বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারীর মোট ৫২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রায় ৭৫ হাজার কৃষক পাট চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান তারা। কৃষকেরা বলছেন, চলতি মৌসুমে পাটের যে দাম তাতে পাট বিক্রি করে লাভ তো দূরে থাক, খরচই উঠছে না। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের বিঘাপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বর্তমান বাজারের পাটের দাম অনেক কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ১৮০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। বীজ, সার, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি আর শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে ১৫-১৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পাট চাষিরা। চলতি বছরে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে পাটের ফলন যেমন কম হয়েছে, তেমন বেড়েছে খরচ। পাট জাগ দেওয়া নিয়েও বিপাকে পড়তে হয় তাদের। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম, সেই দাম নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন চাষিরা। চাষের খরচ তোলা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা। দাম কমে যাওয়ার জন্য চাষিরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দুষছেন। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, এ বছর কৃষকের পাটের ফলন ভালো পেলেও বাজার দর নিয়ে হতাশায় আছেন। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আগামীতে পাট চাষ অর্ধেকে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষক তাহাদুল ইসলাম বলেন, আগে পাট বিক্রি করে ইলিশ কিনতাম। এখন সেই ইলিশও হারিয়ে গেছে, পাটের দামও নেই। দাম না পাওয়ার কারণে অনেক পাটচাষি সবজি আবাদসহ অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। সব মিলিয়ে দিন দিন পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। পাট ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বলেন, আমি গ্রাম ঘুরে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণে পাটগুলো কিনছিলাম। আজকে সেই কেনা দামেই বিক্রি করতে হলো। পরিবহন খরচ, কুলি খরচ, হাটের খাজনা হিসাব করলে লাভ থাকছে না। গত হাটে এ পাটের দাম ২২০০-২৩০০ টাকা ছিল। দিন যতই যাচ্ছে পাটের দাম ততই কমছে। বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাট এর ন্যূনতম দাম দাবি করেছে ৪ হাজার টাকা। কৃষকনেতারা বলছেন, পাট আমাদের জাতীয় সম্পদ। দেশের চাহিদা পূরণ করে পাট বিদেশে রপ্তানি করে সরকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। প্লাস্টিক পণ্যের তুলনায় পাটের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবিলম্বে পাটকলগুলো চালু করতে হবে। সোনালী আঁশ যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে সরকারের নজর দিতে হবে। এছাড়াও পাটঅঞ্চল খ্যাত নড়াইল এ পাটের সর্বনিম্ন মূল্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। গত ৭ সেপ্টেম্বর নড়াইল আদালত সড়কে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক সমিতি নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি প্রবীর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান কালু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অ্যাড. এস এ মতিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নড়াইল জেলা কমিটির সভাপতি ও খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম বরকত উল্লাহ, সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন রায়, কৃষক সমিতি নড়াইল জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কংকন পাঠক, আনিচুর রহমান, সঞ্জীত রাজবংশী, কৃষক নেতা বক্কার মিনে, রশিদ মোল্যা, মো. আলাউদ্দিন মোল্যা প্রমুখ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ফরিদপুরেও পাটের মণ ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা এবং কৃষি ফসলের লাভজনক দামের দাবিতে কৃষক সমিতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া বাসস্ট্যান্ডে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সামসুদ্দোহা তালুকদারের সভাপতিত্বে ও হাফিজুর রহমান এর পরিচালনায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুজ্জামান লায়েক, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি সুধীন সরকার মঙ্গল, কৃষক নেতা আশরাফুল আলম বাবু, কাজী মান্নান, নজর”ল ইসলাম, মো. শাহ আলম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সার, তেল, বীজ, শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বাজারে পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। এতে করে কৃষকের খরচের টাকা উঠছে না, উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছে। পাট আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। পাট কে সোনালী আশ বলা হয়, অথচ আজ এই সোনালী আশ হারানোর পথে।
শেষের পাতা
ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার দাবি কৃষক সমিতির
চলতি বাজেটেও গুরুত্ব পায়নি স্বাস্থ্য খাত
শ্রমিকদের রেশন নিশ্চিত করতে বাজেটে বরাদ্দ চাই
বাজেট নিয়ে বগুড়ায় সিপিবির সমাবেশ
কমরেড আব্দুল রশিদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবি
বরিশাল শ্রমিক কর্মচারী সংগঠনগুলোর ১১ দফা দাবি
কমরেড বজলুর রহমানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
কমিউনিস্ট পার্টির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান
কামাল হায়দারের মৃত্যুতে শোক
বাজেট ও যুব সমাজের ভাবনা শীর্ষক সভা
সাতক্ষীরার আম ফ্রান্স ও ইতালিতে
কমরেড রনো বেঁচে থাকবেন আমাদের মুক্তি সংগ্রামে
৭ দিনের সংবাদ...
দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান জরুরি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..