পরিবেশের উন্নয়ন হোক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমণ্ডি এলাকার সাত মসজিদ রোডের মাঝখানের সব গাছ কেটে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, সড়কের ডিভাইডার সংস্কারের জন্য এই গাছগুলো কেটে ফেলতে হচ্ছে। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিবেশবাদীরা অহিংস উপায়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। কবিতা, একক ও দলীয় গানে, চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তারা গাছ কাটার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু মনে হচ্ছে, নগর কর্তৃপক্ষ খুব শক্তিশালী-বলবান; নিজের নাগরিকদের এই প্রতিবাদে কান দিচ্ছে না। ঢাকা শহর বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করে থাকে প্রায় সময়ই। আন্তর্জাতিক নানা মাপকাঠিতে এই শহর বায়ু দূষণেও নিয়মিত শ্রেষ্ঠ হয়। এখানে প্রতিদিন অবাধে নদী-খাল-পুকুর দখল ও ভরাট হয়ে যায়। কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই যে কেউ চাইলেই একের পর এক গাছ কেটে ফেলতে পারে। শুধু একটু রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলেই হয়! এই শহরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে, গাড়ি-বাইক-বাস-ট্রাকের কালো ধোঁয়া ও উচ্চ শব্দের হর্নে সাধারণ মানুষের জীবনের আয়ু ও কর্মক্ষমতা কমে যায়- তাতেও কর্তৃপক্ষের কোনো দায় নেই। বাচ্চাদের খেলার মাঠ দখল, পার্ক কেড়ে নিলেও কেউ কিছু বলবে না। শুধু একটু রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলেই এগুলো যে কেউ করতে পারে। এটাই এখন আমাদের নগরবাসীর ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ সিটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে সড়কদ্বীপ, ফুটপাত, সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়, যার আওতায় সাতমসজিদ রোডের সড়ক বিভাজকের উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। গাছ কাটার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন- তারা বলছেন, এরই মধ্যে সড়ক বিভাজকটির প্রায় ৬০০ গাছ কাটা হয়েছে। এখন ৩০ থেকে ৪০টি গাছ আছে। বন বিভাগের বিধিমালায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বা সরকারি জমির গাছ কাটার আগে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়। এখানে তা অনুসরণ করা হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাতমসজিদ সড়কে যে গাছগুলো কাটা হয়েছে, তার মধ্যে ছিল বট, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিরীষসহ নানা প্রজাতির দেশীয় গাছ। গত ৩০ জানুয়ারি গাছ কাটার বিরুদ্ধে সাতমসজিদ সড়কে প্রথম মানববন্ধন করা হয়। এরপর গাছ কাটা বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল। গত ৩০ এপ্রিল রাতে আবারও কাছ কাটা শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে নথি দেখিয়েছে, সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের কথা বলা হলেও গাছ কাটার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। গাছ, প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করা উন্নয়ন এই নগরবাসী চায় না। এই বছর দেশে ৫৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম পড়েছে। গাছহীন নগরীতে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। বিশ্ব যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাছই আমাদের বাঁচাতে পারে। এটা কঠিন কোনো কথা না, এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। গাছকে গাছের জায়গায় রেখে বিকল্পভাবে উন্নয়ন করতে হবে। আর নগরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নিলে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় মানুষের মতামত নিতে হয়। ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা করেনি সিটি করপোরেশন। বরং গভীর রাতে সড়ক বিভাজকের গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। এটা জবাবদিহিতা হীনতার ফল। কর্তৃপক্ষের এই অবস্থা দেখে যে কারোর মনে পড়বে কবি শঙ্খ ঘোষের সেই তিনটি লাইন- ‘দেখ খুলে তোর তিন নয়ন, / রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে/ দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..