রাজনৈতিক বিরোধে জর্জরিত পাকিস্তান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ধুঁকছে অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধিও নিম্নগামী এবং ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পাকিস্তান। এর মধ্যেই কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটি জর্জরিত হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্রমবর্ধমান বিরোধ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে গত ৯ মে দুর্নীতির অভিযোগে ইমরানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভ-সহিংসতা। বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন। এরপর বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপে ইমরান মুক্ত হলেও নাটকীয়তার শেষ হয়নি। একের পর এক মোড় বদল হচ্ছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। এর মধ্যে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পর পাকিস্তানজুড়ে চলা সহিংসতায় জড়িত ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী ইমরান খানের বাসভবনে আত্মগোপন করে আছেন বলে সরকারের দাবি। এদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে সামরিক আইনে বিচার করতে চায় সরকার। তাদের বের করে দিতে পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্যমন্ত্রী পিটিআই প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছিলেন। যা ১৮ মে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় শেষ হয়। গত ১৭ মে থেকে ইমরানের জামান পার্কের বাড়ি ঘিরে রাখে পাঞ্জাব পুলিশ। পরদিন সকাল সকালই পুলিশ জামান পার্কের দিকে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে বিপুল সংখ্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পরে ১৯ মে সরকারের একটি দল ওয়ারেন্ট নিয়ে ইমরান খানের বাড়িতে যান। তারা ইমরান খান এবং তার আইনি দলের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন। তবে এতে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি তারা। গণমাধ্যম গুলো জানিয়েছে, ইমরান খান সরকারের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন যে, তার বাড়ি তল্লাশি করতে হলে তার কিছু শর্ত আছে। এই শর্ত এখন পাঞ্জাব সরকারের কাছে উত্থাপন করবে ওই দলটি। এরপর কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তা ঠিক করবে সরকার। এদিকে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) সেনাবাহিনীকে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে পিটিআইকে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে অপসারিত করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ‘কোনো বিরোধ’ নেই। গ্রেপ্তারের ও জামিনে মুক্তির পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ইমরান বলেন, তিনি কারও সঙ্গে কোনো সংলাপে বসছেন না, কারণ তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন ‘শুধু নির্বাচনের বিষয়েই কথা হবে, অন্যকিছু নয়।’ পিডিএম সামরিক বাহিনীর সহায়তায় পিটিআইকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে, ফের এমন অভিযোগ করে তিনি এই প্রবণতাকে দেশের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেন। এটি ১৯৭১ সালের পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। লাহোরে কোর কমান্ডারের বাড়িসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার নিন্দার পাশাপাশি ইমরান একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে ৯ মে-র দাঙ্গার বিস্তারিত তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমিই আগেই বলে দিচ্ছি, যে কোনো সুষ্ঠু তদন্তে এটি বের হবে যে ওই হামলাগুলো ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ” তাদের দাবির সমর্থনে তার দল তদন্ত কমিশনের কাছে প্রমাণ তুলে ধরবে বলে জানান তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..