চীনের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ নিয়ে বিভক্ত ইইউ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : চীনের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানিয়েছে সদস্য রাষ্ট্র লিথুয়ানিয়া। তবে এ নিয়ে বিভক্ত ইইউ। সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মস্কো সফরের পর দেশটিকে নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে পশ্চিমাদের। আগে থেকেই তাদের আশঙ্কা ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র সহায়তা দিতে পারে চীন। এবার সেই আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে। এমন অবস্থায় লিথুয়ানিয়ার দাবি, যত দ্রুত সম্ভব চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যান্ডসবার্গিস বলেন, শি জিনপিং যদি একজন ঘোষিত যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ান, তাহলে আমাদেরও চীনকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। চীনের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি এটা করা হয়, ততই ভাল। তবে ইইউ-র সব সদস্য দেশ এরকম চরম পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষে নয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইইউ-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত এক দশকে অন্তত ৪০ বার বৈঠক করেছেন। ফলে এখন তিনি পুতিনের পাশে থাকবেন সেটাই হওয়ার কথা ছিল। এর আগে আন্তর্জাতিক আদালত ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করে। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। এরইমধ্যে মস্কো সফরে গিয়ে যেনো বুড়ো আঙুল দেখালেন শি জিনপিং। লিথুয়ানিয়া চায় এখনই এক জোট হয়ে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। যদিও অন্য ইইউ সদস্যরা বলছেন, চীন হয়ত এখন রাশিয়ার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইছে। চীনসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের নিন্দা জানায়নি। তবে পশ্চিমা দেশগুলো প্রথম থেকেই রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল করতে সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। সেই স্রোতের বিপরীতে রাশিয়ার পাশে ছিল চীন। রুশ অর্থনীতি এত এত নিষেধাজ্ঞার পরেও যেভাবে টিকে আছে তার পেছনে চীনের অবদানই সবথেকে বেশি। প্রেসিডেন্ট শি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কোনো সীমারেখা থাকবে না। কিন্তু তার এই বক্তব্যের কারণে ইইউ-র সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে। বেশ কয়েকটি ইইউ দেশ মনে করছে, চীন এবার রাশিয়াকে অস্ত্র বিক্রি করতে পারে। যদিও সামরিক জোট ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল স্টলটেনবার্গ জানিয়েছেন, চীন যে রাশিয়াকে অস্ত্র বিক্রি করতে চায়, এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। বেশিরভাগ চীন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এখন রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বজায় রেখেছে। রাশিয়া যে ইউক্রেনে যুদ্ধ করছে, তাকেও সমর্থন করেছে চীন। তারা রাশিয়াকে যে টায়ার, ট্রাক, পোশাক ও অন্য জিনিস দিচ্ছে। রাশিয়ার সেনারা এগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু চীন থেকে রাশিয়া অস্ত্র নেয়নি কোনো। ইইউ-র দেশগুলির মধ্যে চীনের সঙ্গে সবথেকে বেশি বাণিজ্য করে জার্মানি। তারাও চীনের সঙ্গে কোনো বিবাদে যেতে চায় না। সব মিলিয়ে ইইউ দেশগুলি চীন নিয়ে বিভক্ত। কিছু দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে চায়। আবার লিথুয়ানিয়ার মত কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চীনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..