গণমানুষের স্বার্থে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানিক সাহা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক সাহা হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের ১৯তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারা বলেছেন, গণমানুষের স্বার্থে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানিক সাহা। তিনি সবসময় রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। যা আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুরণীয়। গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে সাংবাদিক মানিক সাহার সুহƒদদের পক্ষ থেকে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আশীষ কুমার দে। বক্তৃতা করেন সিপিবি’র সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজে’র মহাসচিব দীপ আজাদ ও সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া, নিউজ ২৪-এর নির্বাহী সম্পাদক রাহুল রাহা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, ডিআরইউ সহ-সভাপতি দীপু সরোয়ার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও জনকল্যাণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, ক্রাইম রিপোর্টারস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক পুলক রাহা, পরিবেশ আন্দোলনের নেতা মো. নূর আলম, সাংবাদিক গাজী আবু বক্কর সিদ্দিকী প্রমুখ। সাংবাদিক মানিক সাহাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, তার মৃত্যুও চেয়ে তার জীবনটা আরও বেশি মহৎ এবং আকর্ষণীয়। তার জীবন আরও বেশি উদযাপন এবং অনুসরণের দাবি রাখে। তিনি সরকারের দীর্ঘ দিনের বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, মানিক সাহাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিচার চাইতে থাকবো। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যে সরকারের অধীনে বিচার হওয়া সম্ভব সেই ধরনের সরকার গঠন করে বিচার করা হবে। মানিক সাহা হত্যার বিচার হতেই হবে। সভায় মানিক সাহার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে নানান স্মৃতি তুলে ধরে সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উšে§াচন হওয়া প্রয়োজন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলদেশ গড়তে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হাব। কারণ মানিক সাহা সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সবসময় স্বোচ্চার ছিলেন। বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মানিক সাহাসহ অন্য সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানান সাংবাদিক নেতা ওমর ফারুক। তিনি বলেন, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা তদেন্ত সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন-নিবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। তাই সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে মানিক সাহার মতো সাহস ও দূঢতা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সহাসী ভূমিকা রেখেছেন মানিক সাহা। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই তার হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারে। হত্যার পরিকল্পনাকারী, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মানিক সাহার চেতনায় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভার শুরুতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। এরআগে মানিক সাহার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন নির্ভীক সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষানুরাগী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক সাহা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..