২০ জানুয়ারির শহীদদের লাল সালাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টনে কমিউনিস্ট পার্টির মহাসমাবেশে কাপুরুষ শত্রুরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের মাঝ থেকে কেড়ে নিয়েছিল কমরেড হিমাংশু মণ্ডল (বটিয়াঘাটা), কমরেড আব্দুল মজিদ (দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি) এবং কমরেড আবুল হোসেন হাশেমকে (বাওয়ানী জুট মিল)। এছাড়াও নিহত হন জনসভায় আসা সিপিবি সমর্থক মোক্তার হোসেন (মাদারীপুর)। তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাশ দাস (বি.এল কলেজ, খুলনা)। আহত হন আরো প্রায় অর্ধশতাধিক কমরেড শুভানুধ্যায়ী। আমরা এ বীর শহীদদের মৃত্যুবার্ষিকীতে সাপ্তাহিক একতার পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক ভালোবাসা ও লাল সালাম। একতা তাদের অসমাপ্ত কাজ ও সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণের মহান অমর স্বপ্ন পূরণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম একতা অক্ষুণ্ন রেখেছে এবং আমৃত্যু অক্ষুণ্ন রাখবে। দুনিয়ার দেশে দেশে কমিউনিস্টরা কীভাবে আদর্শের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনা করেন, তার নানা উদাহরণ রয়েছে। ২০ জানুয়ারির কমিউনিস্ট শহীদরা সেই ঐতিহাসিক উদাহরণে একটি অনন্য সংযোজন। কমরেড হিমাংশুর কথাই ধরুন। সুদূর বটিয়াঘাটায় তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে একা বাড়িতে রেখে পার্টির ডাকে তিনি ছুটে এসেছিলেন পল্টনে। হাতে ছিল তার পার্টির লাল পতাকা। ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ঘাতকের বোমা তাকে আঘাত করার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি পার্টির পতাকাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। ছেড়ে দেননি সেই পতাকা। প্রকৃত কমিউনিস্টরা এভাবেই মৃত্যুকে বরণ করেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ভারতবর্ষে ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করলো (সিপিআই’র জন্ম ১৯২৫ সালে), সেখানেও পার্টির ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে এ ধরনের অনন্য একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। ওই ইতিহাসে লেখা হয়েছে, ‘যখন একজন পার্টি সদস্য মৃত্যুর মুখোমুখি হন, তখন কিভাবে তিনি মৃত্যুকে বরণ করে নেন? অনেকগুলো উদাহরণ আমাদের স্মৃতিপটে ভেসে উঠে। এরমধ্যে একটিকে তুলে ধরা যাক। কমরেড কৃষ্ণা পিল্লাই ছিলেন একজন অগ্রণী কমিউনিস্ট নেতা, কেরালা রাজ্যে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নির্মাতা। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকাকালীন তিনি সর্পদংশনে দংশিত হন। যদিও তিনি জানতেন যে, আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু হবে, তারপরও তিনি তার পার্টি রিপোর্ট লেখার কাজ থামাননি। কম্পিত হাতে রিপোর্টটি শেষ করে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার চোখের সামনে অন্ধকার ছড়িয়ে পড়ছে। শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি কী ঘটতে চলেছে। কমরেডস, আপনারা এগিয়ে চলুন, আপনাদের রক্তিম অভিবাদন।” (দেখুন, এবি বর্ধন, ‘ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির আশি বছর’ পৃষ্ঠা-৬০)। এ ঘটনাটি সত্যিই আমাদের অভিভূত করে। আমরা পুনরায় উপলব্দি করি, কিভাবে সাম্যবাদের অমর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে মানুষ মৃত্যুকেও তুচ্ছজ্ঞান করতে পারেন। কমরেড হিমাংশুও মৃত্যু মুহূর্তে এরকমই হয়তো ভেবেছিলেন। সেজন্যই হয়তো শরীরে মৃত্যু যত অগ্রসর হয়েছে, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যত শিথিল ও শীতল হয়ে আসছিল, ততই দৃঢ় হচ্ছিল তার লাল পতাকার ওপর রাখা মুষ্টিবদ্ধ হাত। আহত অনেকে শেষ পর্যন্ত পঙ্গু জীবন-যাপন করছে। কিন্তু তারা বিপ্লবের পার্টিকে ছাড়েন নি। গ্রামে তারা পার্টির কাজ পুরোদমে চালিয়ে গেছেন। হিমাংশু-হাসেম-মজিদসহ কমরেডদের রক্তে কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা আরো লাল হয়েছে। ঘাতকরা কমিউনিস্ট পার্টিকে দমাতে পারে নাই। নব উদ্যমে এগিয়ে চলেছে মেহনতি মানুষের লড়াই-সংগ্রামের ঝাণ্ডা নিয়ে। প্রিয় শহীদ কমরেডগণ, আপনাদের পুনরায় জানাই লাল সালাম।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..