ছয় দশক পর প্রথমবার চীনে জনসংখ্যা হ্রাস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ চীন। এই বিপুল জনসংখ্যা কমাতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল দেশটির সরকার। তার মধ্যে এক সন্তাননীতি ছিল অন্যতম। এর ফলে ‘ঋণাত্বক জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুগে’ প্রবেশ করেছে চীন। পরিসংখ্যান অনুসারে, ১৯৬১ সালের পর প্রথমবারের মতো জনসংখ্যা ‘ঐতিহাসিকভাবে’ হ্রাস পেয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, গত ২০২২ সালের শেষে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১৪১ কোটি সাড়ে ১৭ লাখের মতো। আগের বছর ছিল ১৪১ কোটি ২৬ লাখ। এ হিসেবে গত ১৭ জানুয়ারি চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, জনসংখ্যা কমেছে সাড়ে ৮ লাখ। কয়েক দিন আগেই নতুন পরিসংখ্যানে ঋণাত্বক প্রবণতা উঠে আসবে বলে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ অনুমান করেন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘোষণা এল। সাম্প্রতিক বছরে এই আশঙ্কা ঘিরে জনসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল চীন। কিন্তু সেই চেষ্টা কাজে লাগেনি বলেই জানাচ্ছে নতুন পরিসংখ্যান। এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান কাই ফাং বলেছেন, প্রত্যাশার অনেক আগেই গত বছর চীনের জনসংখ্যা শীর্ষে পৌঁছেছিল। জনসংখ্যা ও অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২২ সাল নাগাদ বা ২০২৩ সালের পরে চীন ঋণাত্বক জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করবে। গত বছরের জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে ৬ দশমিক ৭৭ জন, যা আগের বছরের ৭ দশমিক ৫৩ জন্মের হার থেকে কম। আগের বছরের মোট ১ কোটি ৬ লাখের বেশি নিবন্ধিত জন্মের তুলনায় এবার ১ কোটিরও কম। গত বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বনিম্ন। ১৯৭৬ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ মৃত্যুর হারও ছিল গত বছর। ২০২১ সালের ৭ দশমিক ১৮ জন মৃত্যুর হারের তুলনায় গত বছর প্রতি হাজারে ৭ দশমিক ৩৭ জন মারা গেছে। এর পেছনে আংশিকভাবে কোভিড দায়ী। এত দ্রুত জন্মহার হ্রাস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রবৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর মধ্যে চীনে শ্রমশক্তি সঙ্কুচিত হয়েছে। সামনে দীর্ঘমেয়াদী গৃহ চাহিদা আরো কমে যাবে। পেনশন ব্যবস্থা সরকারের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলাফল হিসেবে অর্থনীতির আকারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে বেগ পেতে হবে চীনকে। অন্যদিকে চলতি বছরে ভারতের কাছে সবচেয়ে জনবহুল দেশের মর্যাদা হারাতে পারে। তবে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই বলেছেন, চীনের সামগ্রিক শ্রম সরবরাহ এখনও চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত নয়। চীন এর আগে কড়াভাবে ‘এক-সন্তান নীতি’ কার্যকর করলেও সম্প্রতি আরো সন্তান নেয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিছু অঞ্চল দম্পতিদের সন্তান ধারণের জন্য প্রণোদনা দেয়া শুরু করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির বাড়িয়ে দিয়েছে। শেনজেনে সন্তানের তিন বছর না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তা সত্ত্বেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..