অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধির উদ্যোগে ফুঁসছে ফ্রান্স

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর থেকে ৬৪ বছর করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে গোটা ফ্রান্স জুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করেছে দেশটির আটটি শ্রমিক ইউনিয়ন। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল সাধারণ ফরাসি থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। গত ১৯ জানুয়ারির এই আন্দোলনে আশির দশকের পর সবচেয়ে বেশি লোকের অংশগ্রহণ ছিল। আন্দোলনকারীদের মতে, গোটা ফ্রান্সে প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। শুধু রাজধানী প্যারিসেই ছিল প্রায় চার লাখ মানুষের উপস্থিতি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্যারিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্বর থেকে শুরু করে বাস্তিল হয়ে নেশন পর্যন্ত পুরো এলাকা ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে। সেখান থেকে পুলিশ ত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সাই, লিও, লিল, তুলুজ, নিস্সহ ফ্রান্সের বড় শহরগুলোতেও একযোগে আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে। দূরপাল্লার বাস-ট্রেনসহ গোটা ফ্রান্সের প্রায় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। এছাড়া বাতিল করা হয় একশোর বেশি ফ্লাইট। এককথায় এদিন গোটা ফ্রান্সের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে এই আন্দোলন ম্যাক্রো প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। সব দেশের ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে (জাতীয় পরিষদ) বামপন্থি ও অতি ডানপন্থিরাও এর বিরোধিতা করেছেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফ্যাবিয়ান রাসেল বলেছিলেন, এই আন্দোলনে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের দেয়াল কেঁপে উঠবে। উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্ন জাতীয় সংসদে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত রূপরেখায় বলা হয়, পুরোপুরি পেনশন পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কর্মীদের ৪৩ বছর কাজ করতে হবে। বর্তমানে যা ৪২ বছর।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..