বিপ্লবী নলিনী দাস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা ফিচার : ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যেসব অগ্নিপুরুষ সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে কমিউনিস্ট মতবাদ গ্রহণ করে আমৃত্যু সমাজতন্ত্রের বিপ্লবী লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমরেড নলিনী দাস। এবার তাঁর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮২ সালের ১৯ জুন এই বিপ্লবী বীর মৃত্যুবরণ করেন। দৃঢ় সংকল্প আর অফুরন্ত কর্মশক্তির অধিকারী, আমৃত্যু ত্যাগী বিপ্লবী নলিনী দাস সারা জীবন মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। তাঁর ৭২ বছরের জীবনকালের ২৩ বছরই কেটেছে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, হিজলী, আলীপুর আর প্রেসিডেন্সি কারাগারের বন্দিদশায়। দেশভাগের পর পাকিস্তানের কারাগারেও বহু বছর বন্দি থাকতে হয়েছে এ বিপ্লবীকে। জেল জীবনের বাইরে বাকি জীবনের আরও ২০ বছর ৯ মাস তাঁকে বাংলার পথে প্রান্তরে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। বিপ্লব ও সংগ্রামের এক অনন্য নাম বরিশালের নলিনী দাস। নলিনী দাস ১৯১০ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন বরিশাল জেলার বর্তমানে ভোলা জেলার উত্তর শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দূর্গামোহন দাস ছিলেন ভোলার স্থানীয় জমিদারী এস্টেটের নায়েব। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। দুরন্ত চঞ্চল মেধাবী এই বালক ১৯২১ সালে কংগ্রেস ও খেলাফত কমিটির আহবানে হরতাল-ধর্মঘটের সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় গ্রেফতার হন। একদিনের সাজা দিয়ে পুলিশ পরে তাঁকে ছেড়ে দেয়। ১৯২৪ সালে তিনি যুক্ত হন বিপ্লববাদী যুগান্তর দলে। পড়াশুনা আর দেশের স্বাধীনতার জন্য দৃঢ়চিত্তে শুরু হয় তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম। ১৯২৮ সালে তিনি সশস্ত্র বিপ্লববাদী দলের সাথে যুক্ত অবস্থায় প্রবেশিক (ম্যাট্রিক) পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। একজন ফুটবল খেলোয়ার হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল গোটা বরিশাল অঞ্চলে। এরপর তিনি বরিশালের বিএম কলেজে আইএসসিতে ভর্তি হন। আইএসসি পরীক্ষার পূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা মেছুয়া বাজারে, বোমা হামলার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। শুরু হয় তাঁর পলাতক জীবন। অগ্নিযুগের বিপ্লবী আন্দোলনে অনুশীলন, যুগান্তর প্রভৃতি বিপ্লবী দলের সঙ্গে তিনি শৈশবেই যুক্ত হয়ে পড়েন। চট্টগ্রামের সূর্য সেন, বরিশালের নলিনী দাস ছিলেন ব্রিটিশরাজের আতঙ্ক। এই দু’জনকে জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। ভগৎ সিং, সূর্য সেন, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, তারেকশ্বর দস্তিদার, দীনেশ মজুমদার, বিনয় কৃষ্ণ বসু, বাদল গুপ্ত, সুশীল লাহিড়ী, বসন্ত বিশ্বাস, রাম প্রসাদ, রামকৃষ্ণ রায়সহ আরো অনেক বিপ্লবীর মতো ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে নলিনী দাসকে হত্যা করার চেষ্টা করে ব্রিটিশ সরকার। কিন্ত নলিনী দাসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন হত্যা মামলার তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে আন্দামান দ্বীপান্তর সেলুলার জেলে পাঠিয়ে দেয়। ১৯৩০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় পুলিশ কমিশনার টেগার্ট হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়া সত্বেও ব্রিটিশ সরকার তাঁকে বিশেষ আইনের বলে প্রেসিডান্সি জেলে প্রেরণ করে। তারপর ১৯৩১ সালে তাঁকে হিজলী ক্যাম্পে পাঠানো হয়। ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর হিজলী ক্যাম্পে ব্রিটিশ পুলিশ রাজবন্দীদের উপর গুলি বর্ষণ করে। এ সময় কলকাতার সন্তোষ মিত্র ও বরিশালের তারেকেশ্বর সেনগুপ্ত নিহত হন। আহত অবস্থায় নলিনী দাস ও ফনী দাসগুপ্ত হিজলী জেল থেকে পলায়ন করেন। আবার শুরু হয় পলাতক জীবন। ফরাসী অধিকৃত চন্দননগরের একটি বাড়ীতে আশ্রয় নিলেন নলিনী দাস, ওয়াটসন হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামি বীরেন রায় ও টেগার্ট হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও কারাগার হতে পলাতক দিনেশ মজুমদার। ১৯৩৩ সালের ২২ মে পুলিশ নারায়ণ ব্যানার্জীর বাড়ি ঘেরাও করে। শুরু হয় বিপ্লবীদের সাথে খণ্ডযুদ্ধ। এক পর্যায়ে আহত অবস্থায় ধরা পড়েন তিন বিপ্লবী। বিচারে দিনেশ মজুমদারের ফাঁসি হয়। এ সময় নলিনী দাস ও জগদানন্দ মুখার্জীর বিরুদ্ধে ফাঁসি দেয়ার মতো কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে ১৯৩৪ সালের মে মাসে আন্দামান সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। তৎকালীন সময়ে তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘দুর্ধর্ষ বিপ্লবী’ খেতাব দেন। তাঁর বিপ্লবী জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। আন্দামান দ্বীপান্তর গিয়ে নলিনী দাস জেলখানার মধ্যে অনিয়ম ও অত্যাচারের প্রতিবাদে, সকল বন্দিকে সংঘবদ্ধ করে, ১৯৩৩ সালে জেল প্রশাসন ও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আমরণ অনশন করেন। ৩৭ দিনের সেই অনশনে কয়েকজন বন্দির মৃত্যু ঘটে। অনশনরত বন্দিদের দৃঢ়তার কারণে এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকারকে বাধ্য হয়ে জেল কোড আইন অনুসারে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত করতে হয়। ১৯৩৫ সালের এপ্রিল মাসে আন্দামান সেলুলার জেলে দুই কমিউনিস্ট নেতা কমরেড আব্দুল হালিম ও সরোজ মুখার্জী রাজবন্দি হয়ে এলেন। এই দুই বিপ্লবী আন্দামানে বন্দিদের রাজনৈতিক পড়াশুনা ও সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ সম্পর্কে ধারণা দিলেন। বন্দিদের মধ্যে প্রতিদিন গোপনে গোপনে বৈঠক হতো। এভাবে এই আন্দামান সেলুলার জেলে তাঁরা গঠন করলেন ‘কমিউনিস্ট কনসোলিডেশন গ্রুপ’ নামে সংগঠন। যে গ্রুপে নলিনী দাস ছিলেন খুবই সক্রিয়। আন্দামান সেলুলার জেলে রাজবন্দিদের নিয়ে পাঠচক্র এবং বিপ্লবীদের নিয়ে শুরু হয় নিয়মিত ক্লাস। সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হত ক্লাসে। কার্ল মার্কসের সাম্যবাদের ইশতেহার, লেনিনের পার্টিতত্ত্ব, স্টালিনের লেখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিপ্লবীরা জ্ঞান অর্জন করে। স্টালিনের লেখা ‘লেনিনবাদের ভিত্তি’র উপর ক্লাস নিতেন নিরঞ্জন সেনগুপ্ত। দীপান্তর বা কালাপানিতে বন্দি থেকেও ওই সময় কমিউনিস্ট কনসলিডেশন ‘দুনিয়ার খবর’ ও ‘দি কল’ নামে দুটি হাতে লেখা পত্রিকাও প্রকাশ করে। এর দায়িত্বে ছিলেন নলিনী দাস। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে আন্দামানে রাজবন্দিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ব্রিটিশ সরকার তার সাম্রাজ্য ও আধিপত্য রক্ষার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবীদের ধরে আন্দামানে পাঠায়। নতুন রাজবন্দিরাও এই কমিউনিস্ট কনসলিডেশনে যুক্ত হতে থাকেন। কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেসময় বন্দিদের নিয়ে চলতো পড়াশুনা, সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য প্রস্তুতি, বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আর সেলুলার জেল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নানান পরিকল্পনা। সেইসাথে অব্যাহত থাকে রাজনৈতিক নেতা আর বাইরের বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা। এক পর্যায়ে আন্দামানের প্রায় সকল বন্দি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। ১৯৩৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সরকার চাপের মুখে আন্দামান বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এই মৃত্যু ফাঁদের সকল সহযাত্রীকে নিয়ে নলিনী দাস একদিন দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু নলিনী দাসসহ ৩০ জন বন্দিকে দেশে এনে মুক্তি না দিয়ে আলীপুর, দমদম, প্রেসিডেন্সি ইত্যাদি কারাগারে পাঠানো হয়। এ সমস্ত জেলে নলিনী দাস রাজবন্দিদের নিয়ে পার্টির গ্রুপ গঠন করায় ব্রিটিশ সরকার এক পর্যায়ে অন্য বন্দিদের সাথে তাঁর যোগাযোগের সব রকমের পথ বন্ধ করে দেয়। তখন তিনি আন্দামান সেলুলার জেলের এক অনবদ্য ইতিহাস ‘দ্বীপান্তরের বন্দি’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। বইটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি আন্দামানের নির্মম ও তথ্যবহুল ইতিহাস বহন করে। নলিনী দাস ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নিষ্ঠাবান কর্মী হিসেবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিধ্বস্ত কলকাতায় প্রতিরোধ কমিটির কাজে তৎপর ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি বরিশালে ফিরে আসেন। এরপর তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়ে কৃষক সমিতিকে গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বলা যায় গোটা পাকিস্তান আমলটাই তাঁর কেটেছে জেলে বন্দি অবস্থায় আর আত্মগোপন করে। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধকালে এক মিথ্যা মামলায় পাকিস্তান সরকার ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করে। হাইকোর্ট থেকে মুক্তি পেলেও জেল গেটে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিনা বিচারে রাজবন্দি হিসেবে আটক থাকেন। এরপর মুক্তি পান এবং আবার আটক করা হয়। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দি জীবনযাপন করেন। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার আমলে তিনি ছাড়া পান। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি কমিউনিস্ট পার্টির বরিশাল জেলার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের শাসন আমল থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এক দশক ধরে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। তিনি বৃহত্তর বরিশালে কমিউনিস্ট পার্টি এবং মেহনতি মানুষদের আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে আত্মগোপন অবস্থায় বরিশালের গ্রামে গ্রামে কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠন গড়ে তোলেন। এসময় আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে মুকুল সেন, জগদীশ আইচ, নূরুল ইসলাম মনিসহ অনেকে সহায়তা করেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে তিনি বরিশালের ছাত্রদেরকে সংগঠিত হতে সহায়তা করেন। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে তিনি বৃহত্তর বরিশালের ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। ৭০’-এ স্বরূপকাঠীতে কৃষক সম্মেলনে কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনন্য। এই সম্মেলনে প্রখ্যাত কৃষক নেতা জিতেন ঘোষ, হাতেম আলী খাঁ ও মহিউদ্দিন আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নলিনী দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর বরিশালের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। তরুণ ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও কৃষকদের রিক্রুট, ট্রেনিং, অস্ত্রশস্ত্র ও রসদের ব্যবস্থা করতেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে নবোদ্যেমে নলিনী দাস বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অগ্রসেনানী হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশমাতৃকা ও দেশের মানুষের সার্বিক মুক্তির আন্দোলনে নিবেদিত প্রাণ কমরেড নলিনী দাস লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের পৈত্রিক সম্পত্তি পিতা দূর্গামোহন দাসের নামকরণে একটি জনকল্যাণ ট্রাস্টের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৯৮২ সালের ১৯ জুন এই বীর বিপ্লবী মৃত্যুবরণ করেন। এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে কমরেড নলিনী দাস এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। লড়াই-সংগ্রাম ব্যতীত অন্য কিছুই তাকে আকর্ষণ করতে পারে নাই। এই কিংবদন্তি বিপ্লবী তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করেছেন। তাঁর বিপ্লবী জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে চিরদিনই অনুপ্ররণার এক অন্তহীন উৎস হয়ে থাকবে। [শেখ আনিসুর রহমানের রচনা থেকে সংক্ষেপিত]

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..