শোক বইয়ের পাতা থেকে

পঙক্তিমালার প্রত্যেকটি বর্ণই যেন প্রতিরোধ-প্রতিশোধের চূড়ান্ত সিম্ফনি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পল্টনে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা বিস্ফোরণে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খোলা শোক বইটি শোকার্ত পঙক্তিমালায় ভরে উঠেছে। এসব পঙক্তিমালার প্রতিটি বর্ণে মিশে আছে শোক, অশ্রু, বেদনা আর স্বজন হারানোর হাহাকার। রয়েছে শত্রুর প্রতি তীব্র ঘৃণা আর ধিক্কার। পঙক্তিমালাগুলো নিজেরাই যেন এক একটি প্রতিবাদী কণ্ঠ, যে কণ্ঠের উচ্চারিত ধ্বনি শুধু প্রতিবাদ নয়, শত্রুর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাজাতে চাইছে প্রতিরোধ-প্রতিশোধের চূড়ান্ত সিম্ফনি। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোলা শোক বইয়ের কিছু নির্বাচিত পঙক্তিমালা একতার পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো। -সম্পাদক ‘যারা তোমাদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের কাছ থেকে- সেই অমানুষ শত্রুরা নিপাত যাক।’ -হেনা দাস, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য। ‘এই হত্যাকাণ্ড নতুন নয়, এর বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ - বাংলাদেশ কৃষক সমিতির নজরুল এভাবেই তার শোক প্রকাশ করেছেন। তীব্র কঠিন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে শত্রুর প্রতি দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার জন্য পার্টির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি সিপিবি খেপুপাড়া শাখার সদস্য। শহীদদের তাজা রক্তে বিপ্লব দীর্ঘজীবী হবে- লিখেছেন সাংবাদিক আশীষ কুমার দে। সিপিবির মহাসমাবেশে জঘন্যতম বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। পার্টি শক্তিশালী করেই এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। - লিখেছেন ঢাকা বিসিকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বোমা হামলার ধিক্কার জানিয়ে সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন সরোয়ার আহমেদ। কক্সবাজার জেলা যুব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন সুরেশ বড়ুয়া। বোমা বিস্ফোরণ করে লাল পতাকার অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবে না- রায়গঞ্জ তাড়াশ থানার আদিবাসীদের পক্ষে লিখেছেন শ্রী আশুতোষ। ভাইদের এ আত্মত্যাগ আমাদের চলার সাহস যোগাবে - আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুসা। কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত জনসভায় বর্বরোচিত বোমা হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কাজী আরেফ, উদীচী ট্র্যাজেডি, একই সূত্রে গাঁথা। অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় ঘাতক চক্র আবারো সিপিবির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের আর বাড়তে দেয়া যায় না। আজ আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে আরেকটি যুদ্ধ প্রয়োজন। আমরা সেই যুদ্ধের জন্য তৈরি -উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষে লিখেছেন সুজন। সিপিবির রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি আবুল কালাম শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছেন, কমরেডস, ঘুমাও শান্তিতে। আমরা জেগে রবো তোমাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে। তোমাদের কাক্সিক্ষত সমাজ, সমাজতন্ত্র বিনির্মাণে আমরা সশস্ত্র হবো অজস্র মৃত্যুতে। কমিউনিস্ট হত্যাকারী খুনি চক্রের ক্ষমা নেই। শহীদদের রক্তের বদলা নিতে বিপ্লবের লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দিতে হবে দেশ জুড়ে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এ লক্ষ্যে লড়ছে-লড়বে। লিখেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি হাসান তারিক চৌধুরী সোহেল। এ শোকে কাতর হবো না, এ বেদনায় আহত হবো না। বরং আরো বেশি শাণিত হবো, শোষণ মুক্তির সংগ্রামে। লাল সালাম কমরেডস। লিখেছেন রাঙ্গুনিয়ার (চট্টগ্রাম) প্রমোদ বরণ বড়ুয়া। সরকারি হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রি কলেজ ও হাসপাতাল (মিরপুর, ঢাকা) সহকারী অধ্যাপক গুরুদাস সরকার লিখেছেন, হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মুক্তির ¯্রােতধারাকে রুদ্ধ করা যাবে না। (সাপ্তাহিক একতার ২০০১ সালের ২৯ জানুয়ারি সংখ্যা থেকে হুবহু পুনঃপ্রকাশ)

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..