রাজপথে বামপন্থি

সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করুন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক সংলাপের নামে সময়ক্ষেপণ না করে সংবিধান অনুযায়ী সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করার দাবিতে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সিন্ডিকেটের কারসাজি রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর উদ্যোগে গত ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় বর্ধিত পাঠচক্র সদস্য নিখিল দাস, আহবান হাবিব বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন খালেকুজ্জামান লিপন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে সার্ক ফোয়ার, তোপখানা রোড, পল্টন মোড়, বিজয নগর, সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের কাছে এসে শেষ হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। তাই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে ২০ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে সংলাপের আয়োজন করেছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর বাসদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। নেতৃবৃন্দ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, অতীতেও ২০১২ সালে এবং ২০১৭ সালে তৎকালীন ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে বাসদের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবিতে ২৩টি সুপারিশ প্রস্তাব করেছিল। বাসদের প্রস্তাবিত ৫ দফার উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল- ১। নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনকে স্বতন্ত্র কাঠামোয় দাঁড় করানো, নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা ৮ বিভাগ বিবেচনায় ৮ জন করা, সার্চ কমিটি গঠনের কাঠামো, নির্বাচন কমিশনের বাজেট, নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন; ২। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মানদণ্ড - মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, অসাম্প্রদায়িক, কোন প্রকার দুর্নীতির অভিযোগ না থাকা; ৩। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিধি ও ক্ষমতা, জামানতের পরিমাণ কমানো, না ভোটের বিধান, নির্বাচনী বিরোধ মামলা দ্রুত নিস্পত্তির জন্য সাংবিধানিক আদালত গঠন; ৪। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন, সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিল, উপনিবেশিক পুলিশ আইন পরিবর্তন ও ৫। নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা, আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ বাতিলের বিধান, নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতা-ধর্মীয় প্রতারণা ও আঞ্চলিকতা বন্ধ করা। কিন্তু ঐ সব প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে বিগত দিনে সরকারের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। কেন আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি তাও জানানো হয়নি। ফলে এবারের সংলাপে গিয়ে কোন লাভ হবেনা বিধায় বাসদ সংলাপে যায়নি। নেতৃবৃন্দ সংলাপের নামে সময়ক্ষপণ না করে অতিদ্রুত সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচক কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি সংসদ ও সরকারকে চিঠি দিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারীকালেও সরকারি আনুকুল্যে সাড়ে এগারো হাজার নতুন কোটিপতি জন্ম নিয়েছে। করোনার এই দুঃসময়ে সাড়ে তিন কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে এসেছে। আর মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে বাজারে আগুন, কারখানায় শ্রমিকেরা পুড়ে মরছে। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের অবস্থাও ত্রাহিত্রাহি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এখন শীতের সবজির মওসুম। কিন্তু বাজারে শাক সবজির দাম আকাশচুম্বী। সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। নেতৃবৃন্দ বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে নেতৃবৃন্দ ভোট ডাকাতির অবৈধ সরকারকে উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকল বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক দল, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..