চলছে শৈত্যপ্রবাহ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

কুয়াশাঢাকা ভোরে খেজুরের রস নিয়ে যাচ্ছেন এক গাছি
একতা বিদেশ ডেস্ক : ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে দেশরে বিভিন্ন স্থানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে। মানুষ জরুরি কোনো কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। সন্ধ্যার আগেই সবাই ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। মিলছে না সূর্যের দেখা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হলেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ। রাতভর ঝরছে কুয়াশা। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার দুঃস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বিকাল থেকেই কুয়াশা পড়া শুরু হয়। রাতভর টিপটিপ করে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরে। দুপুরের দিকে কিছু সময় রোদের ঝলক দেখা গেলেও তাপ ছড়ানোর আগেই কুয়াশায় ঢেকে যায় আকাশ। জেলার দুই লাখ দুঃস্থ মানুষের বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৩০ হাজার শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। দুঃস্থদের শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় আরও শীতবস্ত্র বরাদ্দের দাবি স্থানীয়দের। কুড়িগ্রামের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজারহাট আবহাওয়া অফিস বলছে জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শীত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন। ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলাচল করছে সব ধরনের যানবহন। শীত ও কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছেন জেলার সাড়ে চার শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের বাসিন্দারা। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন চরাঞ্চলের মানুষজন। শীতে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল থেকেই কাজের সন্ধানে রিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চালক, দিনমজুরসহ ব্যবসায়ীদের শহরে আসতে দেখা গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন চরাঞ্চলসহ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষজন। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষেরই নেই গরম কাপড়। আর হিমেল বাতাসের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সামাদুল হক বলেন, বেশ কয়েক দিন চুয়াডাঙ্গার আকাশ মেঘলা ছিল। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাস বইছে। তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাবে। শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। জেলার সর্বত্র অনুভূত হচ্ছে প্রচণ্ড শীত। ২ জানুয়ারি চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অধিদপ্তরের অপর পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মাসুম আহমদ জানান, এক সপ্তাহ যাবত ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। ধীরে ধীরে এখানকার তাপমাত্রা কমছে। অতীত রেকর্ড অনুযায়ী তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে। এদিকে গরম কাপড়ের দোকানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে শীত থেকে রক্ষা পেতে সকাল-সন্ধ্যা খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..