ভোটযুদ্ধে মৃত্যুর মিছিল থামছে না

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা থামছেই না। একের পর এক সহিংসতায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেন মৃত্যুর মিছিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কোনো ধাপ নেই যেসময় মানুষের প্রাণহানি হয়নি। এটা নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের চরম ব্যর্থতা। এর দায় এই তিন পক্ষের কেউ এড়াতে পারে না। সবশেষ গত ৫ জানুয়ারির পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও সেই মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত ছিল। এ ধাপে দেশের ৭০৮টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হলেও বেশ কিছু জেলা থেকে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, জালভোট, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সহিংস ঘটনায় বগুড়ায় পাঁচজন, চাঁদপুরে দুজন, চট্টগ্রামে একজন, গাইবান্ধায় একজন ও মানিকগঞ্জে এক নারীসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সহিংসতার কারণে অন্তত নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। গোলযোগের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। একটি কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ছিল ভোটের দৃশ্যে। অনিয়মের কারণে ভোট চলাকালে মাঠ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও আসে কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে। সকাল আটটায় এসব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। পরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটগণনা শুরু হয়। এক কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ জন ভোটারের এসব ইউপির মধ্যে ৪০টিতে ইভিএমে ভোট হয়েছে; বাকিগুলোতে ভোটগ্রহণ হয়েছে ব্যালট পেপারে। এর আগে চার ধাপের ভোটে বেশ কিছু এলাকায় সহিংসতা ও গোলযোগ হয়েছে। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক লোকের প্রাণহানির তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা থেকে গেল। এর আগের চারটি ধাপে অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। এবার সেই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরো ১০টি প্রাণ। সামনে আরো তিনটি ধাপে নির্বাচন হবে। সেই তিন ধাপের ভোট ঘিরে ভোটারদের মনে ভয় আর আতঙ্ক কাজ করছে। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলছেন, এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায় নেই। এর দায় প্রার্থী ও সমর্থকদের। ভোট শেষ হওয়ার পর পরই নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব বলেছেন, কিছু সহিংসতার পরেও নির্বাচন ভাল হয়েছে। তবে বরাবরের মতোই এতে দ্বিমত পোষণ করে গণমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সিইসি বলেছেন, নির্বাচনে যে রক্তপাত হচ্ছে সেটি তাদের কাছে প্রত্যাশিত নয়। তবে এর দায় নির্বাচন কমিশনের নয় বলেই মনে করেন তিনি। নূরুল হুদা বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতা নেই কারণ পুলিশ বিজিবিও আক্রান্ত হয়েছে এবং তারা অনেক ধৈর্য নিয়ে কাজ করছে। এর দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। কোন্দলের কারণে সহিংসতা হয়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার জন্য এটা হয় না। যখন জোর করে ভোট দিতে যায় বা কেন্দ্র দখল করতে যায় তখনই এসব ঘটনা ঘটে। এতে নির্বাচন কমিশনের একেবারেই দায় নেই। প্রার্থী ও সমর্থকেরাই দায়ী। তিনি বরং প্রশ্ন তোলেন, ভোটার না থাকলে ৭৫ ভাগ ভোট কোথা থেকে আসে। লাইনে যারা দাঁড়িয়ে থাকে তারা কারা? অন্যদিকে মাহবুব তালুকদারের অভিযোগ, সন্ত্রাস ও সংঘর্ষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এখন ভোটযুদ্ধে যুদ্ধ আছে, ভোট নেই। ইউপি নির্বাচনে উৎসবের বাদ্যের বদলে বিষাদের করুণ সুর বাজছে। ভোটের আগে ও পরে ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা বিধানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর দায় এড়াতে পারবে বলে মনে হয় না।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..