তুরস্কে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তুরস্কের মুদ্রা লিরা। ফলে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তুরস্কের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩৬.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগানের ১৯ বছরের শাসনকালের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখেছে দেশটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত এরদোগানের অর্থনৈতিক নীতির কারণেই এই চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে তুরস্ক। গত ডিসেম্বর মাসেই দ্রব্য মূল্য বেড়েছে ১৩.৫৮ শতাংশ। দেশটিতে বেড়েই চলেছে যাতায়ান ও খাবারের খরচ। সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাসা ভাড়া। গত বছর তুরস্কের মুদ্রা লিরার দাম কমেছে ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে এক ডলার দিয়ে ১৩.৪২ লিরা কেনা যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট তুরস্কের অর্থনীতিতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে কাতার, যার ফলে লিরার মূল্য ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সেই বছরে ২৯ নভেম্বর মাসে তুর্কি মুদ্রাটির মান মার্কিন ডলারের তুলনায় ৪ মাসের সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছায়। এটি ডলারের বিপরীতে ৭ দশমিক ০৭৩৮ থেকে ২৯ নভেম্বরে ৫ দশমিক ১৭ এ পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এরপর ২০১৯ সালে লিরার মান ডলার প্রতি ৫ দশমিক ৬৭৪ হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের চেয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোক্তাদের খরচ বা পণ্যমূল্য ৩৬.১ শতাংশ বেড়ে যায়। গত নভেম্বর মাসে পণ্যমূল্য বেড়েছিল শতকরা ২১.৩ শতাংশ। ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩৩.৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। এই ঘটনা ঘটেছিল রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা এ কে পার্টি ক্ষমতায় আসার আগে। ২০০১ সালে যে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল এরদোয়ান সরকার ক্ষমতায় এসে তা অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় আনে। এ সাফল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তার দলের অবদানকে তুরস্কে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখা হয়। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টির জন্য এরদোয়ানের মুদ্রানীতিকেও দায়ী করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই বসন্তে মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। তবে অর্থনৈতিক নীতি বদলালে এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতিতে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ৮ম অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..