জাপানের জলসীমায় ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : উত্তর কোরিয়া জাপানের জলসীমা লক্ষ্য করে কমপক্ষে একটি অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এমনটাই বলছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রথমে এ বিষয়ে রিপোর্ট করে জাপানের কোস্ট গার্ডরা। তারা মনে করছে, এটি হতে পারে একটি ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি এখনও। ছোড়া এ বস্তুকে দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধাস্ত্র বলে উল্লেখ করে, অন্যদিকে জাপান বলছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে পূর্ব সাগর নামে পরিচিত জাপান সাগরের দিকে অজ্ঞাত বস্তুটি ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরো বিস্তারিত জানতে ঘনিষ্ঠভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নোবুও কিশি বলেছেন, সন্দেহজনক এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উড়ে গেছে। ব্যাপক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে জাতিসংঘের। তা সত্ত্বেও তারা একের পর এক এভাবে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য যদি সত্য হয়, তাহলে এটাই হবে এ বছরে পিয়ংইয়ংয়ের প্রথম পরীক্ষা। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন কয়েকদিন আগে ঘোষণা দিয়েছেন, কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক অস্থিতিশীলতার জন্য তার দেশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরো শক্তিশালী হবে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বছর শেষের এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে এ কথা বলেন কিম জং উন। এরপরই এই পরীক্ষা চালানো হলো। সর্বশেষ এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। এর মধ্য দিয়ে ২০২১ সাল থেকে বার বার উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২১ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক কর্মসূচি অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিতে থাকে উত্তর কোরিয়া। তারা এ সময়ে নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। ট্রেনভিত্তিক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি নতুন দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বলে মনে করা হয় ব্যালিস্টিক বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রকে। কারণ, এসব ক্ষেপণাস্ত্র অনেক বেশি লোড বহন করতে পারে, বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এবং উড়তে পারে অধিক গতিতে। পিয়ংইয়ং এই পরীক্ষা চালাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটিতে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাস ইস্যুতে দেয়া হয়েছে ব্লকেড বা অচলাবস্থা। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। বছর শেষে বিষয়টি স্বীকার করেছেন কিম জং উন। তিনি বলেছেন, তার দেশ জীবন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এ বছরে উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমানের উন্নতি করাই হবে সরকারের লক্ষ্য। ওদিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন এই বলে যে, ঝুঁকিতে থাকা শিশু এবং প্রবীণরা অনাহারে থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিসর্জন দিক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে অনেকটা টান ধরেছে। অন্যদিকে সামরিক কর্মকাণ্ডের দিক দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিমুখী নীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..