প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের মতো আরেকটি গণজাগরণ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম [ ছবি: রতন দাস ]
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলনের উদ্বোধনকালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম বলেছেন, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার, বাক স্বাধীনতা রক্ষায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো এখনকার সময়েও জনগণকে নিয়ে বিশাল গণজাগরণ সংগঠিত করতে হবে। গত ৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মুক্তিভবনের সামনে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উদ্বোধন করেন। ‘দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বিকল্প গড়ো’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ সম্মেলন। কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জলি তালুকদারসহ ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও শাখা থেকে আগত নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আজ দেশ যেমন দুই ভাগে ভাগ হয়েছে, হয়ে আছে, তেমনি ঢাকা শহরও দুই ভাগে ভাগ হয়ে রয়েছে। একদিকে রয়েছে ৯৯ শতাংশ মানুষ, যারা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে রয়েছে ১ শতাংশ

ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম
বিত্তবান, যারা লুটেরা। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আমরা বলেছিলাম এক দেশে দুই অর্থনীতি চলতে পারে না। বাংলাদেশে এবং ঢাকা শহরে দুইটা অর্থনীতি হয়ে গেছে। আমরা ৫৪ ভাগ বাঙালির অধিকার আদায়, ন্যায্য হিস্যা অধিকার আদায়ের জন্য একাত্তর সালে যেমন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সংগ্রাম করেছি। আজ ৯৯ ভাগ মানুষের ন্যায্য হিস্যা অধিকার আদায়ের জন্য একইভাবে আমাদের সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেই সংগ্রাম করতে না পারলে আমরা বাঁচতে পারবো না। মানুষকে বাঁচাতে পারবো না। দেশকে রক্ষা করতে পারবো না। তিনি আরো বলেন, একাত্তরের যে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিলো, তারা কারা? তারা ছিলো কারখানার শ্রমিক, গ্রামের কৃষক, ক্ষেতমজুর, ছাত্র-যুবক, মেহনতি মানুষ। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলো এরা। অথচ অল্প কিছু মানুষ আজ ধনী হয়েছে, লুটপাট করছে। তারা দেশের মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করছে। আমরা বলেছিলাম, কেউ খাবে তো, কেউ খাবে না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর সেই স্লোগানকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে। একাত্তর সালে গণমানুষের অধিকার আদায়ের, মুক্তির জন্য যদি মুক্তিযুদ্ধ যদি ন্যায়সঙ্গত হয়ে থাকে, তাহলে আজকেও ৯৯ ভাগ মানুষের মুক্তির সংগ্রাম করাও যুক্তিসঙ্গত।

ঢাকা জেলার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিপিবি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ
কমরেড সেলিম বলেন, জনগণের ভোট ও ভাতের সংগ্রাম রোধ করার জন্য সরকার মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করছে, নিপীড়নের স্টিম রোলার চালিয়ে তাদেরকে দমন করার চেষ্টা করছে। দেশে চলছে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসন। দুঃশাসন হটাতে হবে, ব্যবস্থা বদলাতে হবে, জোট-মহাজোটের বাইরে বিকল্প শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ কাজ কমিউনিস্ট পার্টিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পার্টিকে সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একইদিন সকাল ১০টায় মহাখালী টিবি হাসপাতাল গেইট বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম। একই সময়ে নবাবগঞ্জের আগলা চৌকিঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সিপিবি ঢাকা জেলার সম্মেলন উদ্বোধন করেন কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য লীনা চক্রবর্তী, সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন একইসময়ে ঢাকার নবগঠিত তিন জেলার সম্মেলন হয়। এসব সম্মেলনের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা জেলায় কমরেড আবিদ হোসেন সভাপতি ও সুকান্ত শফি কমল সাধারণ সম্পাদক; ঢাকা উত্তরে ডা. সাজেদুল হক রুবেল সভাপতি ও লুনা নূর সাধারণ নির্বাচিত হয়েছেন। 

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..