সামিট ফর ডেমোক্রেসি

মাহবুব রেজা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ডিসেম্বরের ৯-১০ দুদিন ব্যাপী অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে’ পৃথিবীর ১১০ টি আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এ সম্মেলন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও বাদ পড়েছে। তবে আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অন্য দুই মার্কিন মিত্র ভারত ও পাকিস্তান। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে’ আমন্ত্রিতদের তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশের বাদ পড়াকে নানাভাবে মূল্যায়ন করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে বিষয়টি। ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্র সম্মেলনে’ রাশিয়া ও চীনকে বাদ দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাইওয়ানকে। তাইওয়ানের আমন্ত্রণকেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ভাল চোখে দেখছেন না। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এরকম গোলমেলে হিসেব আর আচরণ চীন-মার্কিন উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে। শুধু তাই নয় এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্কেও চিড় ধরবে বলেও তারা আশংকা করছেন। অন্যদিকে মার্কিন গণতন্ত্রের এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ ও নেপালকেও আমন্ত্রিতদের তালিকায় রাখা হয়েছে। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার বলিরেখা ফুটে উঠেছে। তারা মার্কিন গণতন্ত্রের এই সম্মেলনের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স’(ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ)-এর ২০২১ সালের ‘বৈশ্বিক গণতন্ত্র পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শাসনব্যাবস্থাকে ‘হাইব্রিড’ ও ‘কর্তৃত্ববাদী’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কিছু হাইব্রিড ও কর্তৃত্ববাদী দেশে নিয়মিতই অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন। তবে ওই সব নির্বাচনে প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নেই। এছাড়া এসব নির্বাচনে নিয়মিত দুর্নীতি ও অনিয়মও ঘটছে বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকরা অভিমত ব্যক্ত করে বলছেন, বৈশ্বিক গণতন্ত্র পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এমন অবস্থানের কারণে মার্কিন গণতন্ত্র সম্মেলনের তালিকা থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়তে পারে। তবে অবাক হওয়ার ব্যাপার হল, এবারের গণতন্ত্র পরিস্থিতি প্রতিবেদনে ‘ক্ষয়িষ্ণু গণতান্ত্রিক দেশে’ সারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নামও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশ্বের ‘গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘর’ খ্যাত সেই যুক্তরাষ্ট্রেই নেই গণতন্ত্র। সেখানেও নেই সার্বজনীন ভোটাধিকার। দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মতো মৌলক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন লাখ লাখ কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যালঘুরা। এছাড়া গণতন্ত্র সম্মেলনে ব্রাজিলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাইডেন। যদিও ব্রাজিলের চরম ডানপন্থী রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারোর ‘কর্তৃত্ববাদী’ আচরণ নিয়ে প্রায়শই সমালোচনা করে থাকেন বিশ্লেষকরা। অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে অংশ নেবে কেবল ইসরাইল ও ইরাক। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য আরব মিত্র মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এ সম্মেলনে। এ বছরের আগস্টে সম্মেলন ঘোষণার সময় হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এসব উদ্দেশ্যগুলো হল কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। মার্কিন সরকারের এই গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মার্কিন সরকারের চরম দ্বৈত স্বত্বার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..