লাইসেন্স!

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কথা সত্যি! একদম সত্যি! স্কন্ধে বন্দুক; পোশাকে রাজ্যের নীল বেদনা নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। অথচ তাদের কাছে কিনা গাড়ির লাইসেন্স চায় আন্দোলনরত পুঁচকে ছাত্ররা! এতো শরৎবাবুর ‘বিলাসীথ গল্পের নায়িকা বিলাসীর ঘরে অন্নগ্রহণের চেয়ে বড় অন্যায়! সেই অন্যায়ই গত ২৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় করেছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা! তাদের সিনার এতোই জোর, রাজধানী শহরের রথী-মহারথী কাউকে মাফ দিচ্ছেন না। তাই বলে সদা সর্বদা জনগণের সেবারত পুলিশের গাড়িকেও আটকে দিবে! কী আশ্চর্য ব্যাপার! হ্যাঁ! সেই আশ্চর্য ঘটনাই ঘটিয়ে যাচ্ছে তাঁরা। আর এর মধ্যে দিয়েই থলের বেড়াল বেড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ জেনে গেছে- যে পুলিশ সাধারণ মানুষের যানবাহন চালানোর লাইসেন্স না থাকলেই আইন প্রয়োগে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে; তাদের নিজেদের বাহনেরই কোনো লাইসেন্স নেই। তবে লাইসেন্স নেই তো কী হয়েছে? বন্দুক, পিস্তল চোখে পড়বে না? সেটা না হয় চোখে পড়েনি। গায়ে পড়া ঊর্দীটাতো দেখবে! না। এ যুগের ফটিকদের এসব কিছু থোড়াই কেয়ার করার সময় নেই। তারা সেদিন দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি গাড়ি আটকে সোজা লাইসেন্স দেখতে চাইল। আর এতেই আঁতে ঘা লাগলো ওই গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যদের। চালক বললো- পোশাকই আমার লাইসেন্স। ভেতরে থাকা আরেক পুলিশ বললেন, বন্দুকই আমার লাইসেন্স! এখানেই শেষ নয়, ইমরান নামে এক পুলিশ সদস্য যথারীতি সুভাষণও (আসলে কটূক্তি) প্রয়োগ করলেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে। আর যায় কোথায়? সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে শুরু করলো- ‘পুলিশের লাইসেন্স নাই, বাংলাদেশ পুলিশ হায় হায়। অতপর অবস্থা বেগতিক দেখে ছুটে আসেন তেজগাঁও জোনের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার। তারই মধ্যস্ততায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন কটূক্তিকারী পুলিশ সদস্য ইমরান। এরপর গাড়িটি ছেড়ে দেন আন্দোলনরতরা। একেই বোধহয় বলে ‘চোরের প্রত্যেক দিন, সাউদের একদিন। থ আর যেদিন সাউদের দিন, সাধুবেশে ঘুরতে থাকা চোর চেনা যায় সেদিন!

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..