দ্বাদশ কংগ্রেস অভিমুখে সিপিবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

আগামী ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ঢাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র দ্বাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাজি বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ, গুলিস্তান) কংগ্রেসের উদ্বোধন। কংগ্রেস সফলভাবে আয়োজনে প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। পার্টি সদস্যদের জন্য কংগ্রেস সংক্রান্ত কিছু খবর ও নির্দেশনা তুলে ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন দলিল সম্পর্কে কংগ্রেসের মূল দলিল হিসেবে ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব (খসড়া)’ আলোচনা ও মতামতের জন্য সারাদেশে পার্টি কমরেডদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে পাঠানো খসড়া দলিলের চেয়ে আরও বেশি সংখ্যক খসড়া দলিল প্রয়োজন হলে, প্রতি কপি ৫ টাকা দাম দিয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক খসড়া দলিল জেলা কমিটিগুলো কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। বর্তমান ‘ঘোষণা ও কর্মসূচি’ দলিলটিই পার্টির রণনীতি দলিল হিসেবে বহাল রাখা হবে। তবে দলিলটি সমসাময়িক করা (আপডেট) এবং ভাষাগত সংশোধনী (সম্পাদনা অর্থে) প্রস্তাব সরাসরি কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে। রণনীতি দলিল সম্পর্কে কোনো কমরেডের এধরনের কোনো প্রস্তাব থাকলে, তা ১০ জানুয়ারি ২০২২-এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পৌঁছাতে হবে। পার্টির গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রস্তাব কংগ্রেসের অন্তত ১ মাস আগে অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি ২০২২-এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পৌঁছাতে হবে। জেলায় জেলায় সাধারণ সভা প্রায় সব জেলায় পার্টির সাধারণ সভা (সব পার্টিসদস্য ও প্রার্থীসদস্যকে নিয়ে) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব সাধারণ সভায় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব (খসড়া)’ ব্যাখ্যা করছেন। কংগ্রেসের প্রতিনিধির অনুপাত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখের সদস্য সংখ্যাকে কংগ্রেসের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারণ করার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। জেলা কমিটির ক্ষেত্রে: প্রথম ২৫ জন সদস্যের জন্য ২ জন, পরবর্তী প্রতি ২৫ জন সদস্যের জন্য ১ জন করে এবং অবশিষ্ট আরো ১৩ জন বা তার বেশি সদস্য থাকলে, তাদের জন্য আরো ১ জন– এই হিসাবে প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর ক্ষেত্রে: ১ জন এবং সদস্য সংখ্যা ৫ জনের বেশি হলে প্রতি ৫ জনের জন্য ১ জন– এই হিসাবে প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমজীবী, নারী, আদিবাসী, তরুণ প্রজন্ম প্রভৃতির মধ্য থেকে প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে কেন্দ্রীয় কমিটি আহ্বান জানিয়েছে। পার্টি ভেটারেন হিসেবে যারা আগে থেকেই গণ্য, তাদের সঙ্গে আরও অল্প কয়েকজনের নাম এবার যুক্ত হবে। তবে কোভিড পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের কংগ্রেসে সাধারণভাবে ভেটারেন কমরেডদের পর্যবেক্ষক করা হবে না। জেলা সম্মেলন সম্পর্কে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সব জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অবস্থাতেই ৩১ জানুয়ারির পরে জেলা সম্মেলন করা যাবে না। জেলা সম্মেলনের তারিখ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করতে হবে। উপজেলা/থানা ভিত্তিতে জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধি নির্ধারণ করতে হবে। যেখানে এই স্তরে কোনো কাঠামো নেই সেখানে সরাসরি শাখার সভায় জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। প্রথম ৩ জন সদস্যের জন্য ২ জন এবং পরবর্তী প্রতি ৩ জনের জন্য ১ জন করে এবং অবশিষ্ট ২ জন থাকলে তাদের জন্য আরো ১ জন– এই হিসাবে জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধির সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। জেলা কমিটির সব সদস্যই (সংগঠকরা নন) পদাধিকার বলে জেলা সম্মেলনের প্রতিনিধি হবেন। জেলা কমিটি স্বল্প সংখ্যক পর্যবেক্ষককেও জেলা সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। যেসব জেলায় পূর্ণ পার্টিসদস্য সংখ্যা ৫০ জনের কম, সেসব জেলার সম্মেলনে সব সদস্যই প্রতিনিধি এবং প্রার্থী সদস্যরা পর্যবেক্ষক বলে গণ্য হবেন। উপজেলা/ থানা, আঞ্চলিক সম্মেলন সম্পর্কে শাখা সম্মেলনের পর, এ বছরের (২০২১ সালের) ডিসেম্বর মাসে সব উপজেলা/ থানা, আঞ্চলিক সম্মেলন করতে হবে। জেলা কমিটির অনুমোদন নিয়ে এসব সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত জেলা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে উপজেলা/ থানা, আঞ্চলিক সম্মেলন করতে হবে। সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানার সব সদস্য প্রতিনিধি এবং সব প্রার্থীসদস্য পর্যবেক্ষক হবেন। শাখা সম্মেলন সম্পর্কে জেলার সাধারণ সভার পর থেকে শাখা সম্মেলন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই উপজেলা/ থানা, আঞ্চলিক সম্মেলন শেষ করতে হবে। সে কথা মনে রেখে উপজেলা/থানা, আঞ্চলিক সম্মেলনের আগেই সব শাখার সম্মেলন করতে হবে। শাখার সব সদস্য ও প্রার্থীসদস্যকে নিয়ে অনুষ্ঠিত শাখার সভাই শাখা সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হবে। শাখা সম্মেলনে ঊর্ধ্বতন কমিটির একজন প্রতিনিধিকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির বিভিন্ন উপ-পরিষদ গঠিত দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান– লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আহ্বায়ক– আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, যুগ্ম আহ্বায়ক– ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও সাদেকুর রহমান শামীম। উপ-পরিষদসমূহের আহ্বায়কবৃন্দ: অর্থ– নিমাই গাঙ্গুলী, স্বেচ্ছাসেবক– সুকান্ত শফি চৌধুরী, দপ্তর– আবিদ হোসেন, আন্তর্জাতিক– মো. কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনা– খান আসাদুজ্জামান মাসুম, খাদ্য– আনোয়ার হোসেন রেজা, সাজসজ্জা– লুনা নূর, প্রচার– ত্রিদিব সাহা, প্রকাশনা– অর্ণব সরকার, বাসস্থান– সাইফুল ইসলাম সমীর, অভ্যর্থনা– অ্যাড. মাকসুদা আখতার লাইলি, সাংস্কৃতিক– জামশেদ আনোয়ার তপন, নিরাপত্তা– অ্যাড. সোহেল আহমেদ, চিকিৎসা– ডা. রকিবুল ইসলাম, মিডিয়া– মঞ্জুর মঈন। চালু হয়েছে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির অফিস মুক্তিভবনের ৫ম তলায় দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির অফিস চালু করা হয়েছে। কংগ্রেস-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম এই অফিস থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। কংগ্রেসের লোগো উন্মোচন ২২ নভেম্বর বিকেলে দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির মুক্তিভবনস্থ অফিসে পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেসের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। লোগো উন্মোচন করেন পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। লোগো উন্মোচনকালে উপস্থিত ছিলেন দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আহ্বায়ক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান শামীমসহ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। লোগোটি ডিজাইন করেছেন শিল্পী মিতা মেহেদী।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..