দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্ক

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : ফের উদ্বেগ, আতঙ্ক। দক্ষিণ আফ্রিকায় মিলেছে সবচেয়ে বেশিবার জিনের বিন্যাস বদলানো করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন। আর এটিই এখন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধরনটি কত দ্রুত ছড়ায়, টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে পারে কিনা- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি; ধরনটিতে আক্রান্ত রোগীও এখন পর্যন্ত খুব বেশি শনাক্ত হয়নি। ধরনটিকে ডাকা হচ্ছে বি.১.১.৫২৯ নামে। বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের যত ধরন শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশিবার জিনের বিন্যাস বদলানো সংস্করণ। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার গৌতেং প্রদেশে ৭৭ জনের দেহে এই ধরনটি পাওয়া গেছে; এর বাইরে বতসোয়ানা, হংকং, ইসরায়েল ও অস্ট্রেলিয়ায় ধরনটি মিলেছে। ধরনটি বেশ দ্রুতগতিতে ছড়ায় বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধরনটির স্পাইক প্রোটিন উহানে শনাক্ত করোনাভাইরাসের আদিরূপের তুলনায় আলাদা। যে কারণে এটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত টিকাগুলোর সুরক্ষাকে পাশ কাটাতে বেশি সক্ষম হতে পারে এবং মহামারী পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা বিজ্ঞানীদের। করোনাভাইরাসের নতুন এ ধরনের কারণে সীমান্তে কড়াকড়ির পথে ফিরছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য ও এশিয়ার দেশগুলো। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এরই মধ্যে ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। সেখান থেকে ফেরা ভ্রমণকারীদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। ফ্রান্সও দক্ষিণ আফ্রিকা, লেসোথো, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, নামিবিয়া ও ই’সোয়াতিনি থেকে আগতদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যেসব ভ্রমণকারী গত ১৪ দিন এইসব দেশে কাটিয়েছেন তাদেরকে সে কথা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং যত শিগগিরই সম্ভব আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে। ইতালিও গত ১৪ দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণ করা মানুষজনের ইতালিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘ভাইরাসের ধরন ছড়ানো এলাকা হিসাবে’ ঘোষণা করতে চলেছে। বাহরাইন এবং ক্রোয়েশিয়াও আফ্রিকার কিছু দেশ থেকে মানুষের আসা-যাওয়া বন্ধ করার পথে রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিন বলেছেন, ইইউ’ও ওই অঞ্চল থেকে বিমান চলাচল বন্ধ করার পথে রয়েছে। এশিয়ায় ভারত তাদের সব রাজ্যে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা সব ভ্রমণকারীকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। জাপান এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকার অন্য আরও ৫ টি দেশ থেকে আসা দর্শণার্থীদের জন্য সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সিঙ্গাপুরও। অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের ওপর নজর রাখছে। ঝুঁকির পরিমাণ বেশি বলে মনে হলে দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর আশপাশের দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে ইচ্ছুকদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। তাইওয়ান ‘উচ্চ ঝুঁকির’ দক্ষিণ আফ্রিকান দেশগুলো থেকে আসা ভ্রমণকারীদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখার নিয়ম চালু করেছে। তবে ধরনটি নিয়ে উদ্বেগে পড়ে তড়িঘড়ি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তারা বলেছে, দেশগুলোর বরং ‘ঝুঁকির ভিত্তিতে এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মানুষজনের এখনও মাস্ক পরে চলাফেরা করা, জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত বলে পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র মুখপাত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নতুন ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। করোনাভাইরাসের ডেলটা ধরনের কারণে ইউরোপের দেশগুলোতে মহামারীর চতুর্থ ঢেউ চলার মধ্যে বিধিনিষেধ জোরদারের পাশাপাশি টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। সেখানকার অনেক দেশেই দৈনিক ভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড হচ্ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শীত নামার এই সময় করোনাভাইরাসের সর্বশেষ নতুন ধরনের প্রাদুর্ভাব পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ৫৪ লাখের বেশি মানুষ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..