লিবিয়ায় কি ফিরে আসছে গাদ্দাফি যুগ?

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মাহবুব রেজা : ২৪ শে ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২০১১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিজেকে একজন প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করেছেন বলে জানা গেছে। গাদ্দাফির জীবদ্দশায় সাইফকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে সাইফ আল-ইসলাম নির্বাচনী একটি পোস্টারের সামনে বসে আছেন এবং প্রার্থী হবার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের দুটি আয়াতের কিছু অংশের উদ্ধৃতি দেন আর বলেন, আল্লাহর ইচ্ছাই সব সময় পূরণ হয়, যদিও অবিশ্বাসীরা তা পছন্দ করে না। সেসময় তার মুখে কাঁচাপাকা দাড়ি এবং পরনে বাদামী রঙের লিবিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছিল। গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ায় নানা মুখী সংঘাত চলে আসছে। এদিকে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো আশংকা প্রকাশ করে বলছে, ২৪শে ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। জাতিসংঘ ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে এ নির্বাচনকে কেউ বানচাল করার চেষ্টা করলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। জানা যায়, গাদ্দাফিকে মেরে ফেলার পর একটি মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে সাইফ আল-ইসলামকে ছয় বছর আটক করে রাখা হয়েছিল। রয়টার্স বলছে, তাকে একটি আদালত ২০১৫ সালে মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছিল এবং ত্রিপোলিতে গেলে তাকে হয়তো গ্রেফতার বা অন্য কোন বিপদের মুখে পড়তে হবে। এতসব হুমকি ধামকি সত্ত্বেও ধীরে ধীরে সাইফ আল-ইসলাম প্রকাশ্যে আসছেন। কিছুদিন আগে নিউইয়র্ক টাইমসে তার একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়। রয়টার্সের এক রিপোর্ট বলছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে পড়া সাইফ আল-ইসলাম অনর্গল ইংরেজি বলেন এবং পশ্চিমা মহলে একসময় তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তবে ২০১১’র ঘটনাবলীর সময় পিতা’র পক্ষ নেয়ায় তার ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়। সাংবাদিক এবং লেখক রবার্ট এফ ওয়ার্থকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গাদ্দাফি পুত্র বলেন, গত ১০ বছরে লিবিয়া ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দেশকে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে বাঁচাতে তিনি তার বাবার তৈরি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘গ্রিন মুভমেন্ট‘ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। তার কথা ছিল, আমি আমার দেশ ফেরত চাই। তারা আমার দেশকে ধর্ষণ করেছে। হাঁটুর ওপর বসিয়েছে। কোনও টাকা পয়সা নেই। জীবনের কোনও স্পন্দন নেই। আপনি গ্যাস স্টেশনে যান, সেখানে ডিজেল নেই। অথচ আমরা ইতালিতে তেল-গ্যাস রপ্তানি করি। ইতালির অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় আমাদের তেল-গ্যাসে। কিন্তু আমার দেশে লোডশেডিং- সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফিকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীতে। মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত এবং হত্যার ১০ বছর পর তার ছেলের কথার সাথে লিবিয়ার বহু মানুষ একমত হবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এখনও তাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে খুঁজছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..