নাটকীয়তায় শেষ হল কপ-২৬

জলবায়ু চুক্তিতে নানা হিসেবে সম্মত হয়েছে দেশগুলো

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : নানা নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে শেষ হয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-২৬’। স্কটল্যান্ডের রাজধানী গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নেয় ২০০টিরও বেশি দেশ, এনজিওসহ বিশ্বের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার প্রতিনিধিরা। কপ-২৬ জলবায়ু চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বলানির ব্যবহার বন্ধ সংক্রান্ত ধারায় আপত্তি তোলে ভারত। ভারতের আপত্তির সঙ্গে চীনসহ কয়লা নির্ভর দেশগুলোও একাত্মতা প্রকাশ করে। তাদের আপত্তির কারণে সম্মেলনের শেষ মুহুর্তে কয়লার ব্যবহার ‘বন্ধের’ পরিবর্তে চুক্তিতে কয়লার ব্যবহার ‘কমানো’ লেখা হয়েছে হবে। এছাড়াও জলবায়ু সম্মেলনে অনেক বিষয়ে নানা হিসেবনিকেশ শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ঐক্যমতে পৌঁছেছে। সম্মেলনের চেয়ারম্যান অলোক শর্মা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্লাসগোতে উপস্থিত প্রায় ২০০টি জাতীয় প্রতিনিধিদলের কেউই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। অনেক বিষয়ে ঐক্য মতে পৌঁছতে না পারার কারণে দু’সপ্তাহের এই সম্মেলন আলোচনার স্বার্থে আরও একদিন বাড়ানো হয়েছিল। সম্মেলনের শুরুতেই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ এই জ্বালানি বিশ্বের প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশের শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলেও, এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বিতর্কিত কয়লা চুক্তির ভাষা অনুযায়ী, ‘ফেজ আউট’ এর পরিবর্তে কয়লা শক্তি ‘ফেজ ডাউন’ করার জন্য দেশগুলোকে তাদের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে, এমন নির্দেশনা দিয়ে ধারাটি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে।ভারতের পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, উদীয়মান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য’ এই সংশোধন খুবই জরুরি ছিল। যাদব বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনার সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু ক্ষেত্রেও যুক্তিসঙ্গত ঐক্যমতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের ধনী দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়ে আসছে। এ চুক্তিতে সংশোধন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইজারল্যান্ডের মতো ধনী দেশগুলোর পাশাপাশি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকেও হতাশ করেছে। কারণ সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোই সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে সামগ্রিক চুক্তির স্বার্থে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো চুক্তির এই সংশোধন মেনে নিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অনুমোদিত চুক্তিটি একটি সমঝোতা। এটি বর্তমান বিশ্বের স্বার্থ, শর্ত, দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ইচ্ছার অবস্থাকে প্রতিফলিত করে। গুতেরেস আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, দুর্ভাগ্যবশত কিছু গভীর দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত রাজনৈতিক ইচ্ছা এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে ভারত ও চীনের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর সমন্বয় সাধন কঠিন হয়ে পড়েছিল সম্মেলনের চেয়ারম্যান অলোক শর্মার পক্ষে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেড়ে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। সে সঙ্গে পৃথিবীতে নানা ধরনের বিপর্যয় যেমন খরা, ভয়ঙ্কর ঝড় ও দাবানল ইত্যাদি আরও ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। জানা যায়, জাতিসংঘের একটি কমিটি আগামী বছর বার্ষিক জলবায়ু তহবিলে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহের বিষয়টির অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। ধনী দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া জলবায়ু তহবিল নিয়ে আলোচনার জন্য ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে দাতা দেশগুলোকে বৈঠকে ডাকা হবে। জাতিসংঘের মতে, বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার দরিদ্র দেশগুলোর প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম। বিপর্যয় ও দুর্যোগের ফলে ফসল ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতি বাদ দিয়েই ২০৩০ সাল নাগাদ কেবল অভিযোজনের খরচই দাঁড়াতে পারে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..