শরণার্থী ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া এবং সিরিয়ার সম্মেলন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা বিদেশ ডেস্ক : রাজধানী দামেস্কের শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া এবং সিরিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দামেস্কে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘর-বাড়িতে ফিরে আসার জন্য গৃহীত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত আরব দেশটিতে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।সিরিয়ার স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী হোসেইন মাখলুফ বলেন, গতবছর সিরিয়ার শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশনা অনুসারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। তিনি বলেন, “মিত্রদের সহযোগিতায় এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় লাখ লাখ শরণার্থী তাদের ঘর-বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ।” মন্ত্রী মাখলুফ বলেন, ফিরে আসা শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ার সরকার সহযোগিতামূলক পরিবেশ দিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া স্থানগুলোতে ফিরে আসা লোকজনকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছে। আর মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের ওপর হামলার অজুহাতে বহুসংখ্যক বেসামরিক মানুষ হত্যা করেছিল। কথিত আস্তানায় হামলার অজুহাতে ২০১৯ সালে মার্কিন বাহিনী পরপর দুই দফা বিমান হামলা চালিয়ে ৬৪ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করেছিল যা এতোদিন মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষটি গোপন রাখে। মার্কিন সেনারা ২০১৯ সালের১৮ মার্চ যেখানে হামলা চালিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি সেখানে একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তিনি এটাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এর পরিণতির ব্যাপারে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। যদিও তার এ সতর্কতার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গত ১৮ মার্চ ওই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেন কিন্তু তাদের রিপোর্টে মার্কিন বিমান হামলার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি এবং বলা যায় পরিপূর্ণ ও স্বাধীন কোনো তদন্ত তারা চালায়নি। শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারাও তাদের অপরাধযজ্ঞের বিষয়টি যেন বেমালুম ভুলে যায়। বর্তমানে দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস সিরিয়ায় দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের আস্তানা গুড়িয়ে দেয়ার নামে ওই মার্কিন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অনেক নতুন তথ্য ফাঁস করেছে। মার্কিন নেতৃত্বে আইএস বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোট জঙ্গি দমনের অজুহাতে ২০১৪ সাল থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো শুরু করে। এসব হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে কথিত আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। সিরিয়ার খ্যাতনামা লেখক গাসান রামেজান ইউসুফ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তারা সেখানে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। এ অবস্থায় মার্কিন সেনাদের ওই হত্যাকাণ্ড যদি যুদ্ধাপরাধ হয় তাহলে কেন তারা এ ব্যাপারে কোনো জবাবদিহিতা করছে না কিংবা কেনইবা তারা বিষয়টিকে উপেক্ষা করে চলেছে সেটাই এখন প্রশ্ন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় মার্কিন সেনারা যেখানেই বিমান হামলা চালিয়েছে সেখানে সতর্কতার ধার ধারেনি এবং এলোপাথাড়ি বোমা বর্ষণ করেছে। এর পরিণতিতে বহু বেসামরিক মানুষজন মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো মূল্য নেই এবং এটাই যুদ্ধাপরাধ। এ কারণে সিরিয়ার সরকার সেদেশে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বহুবার জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কেননা দায়েশ বা আইএস জঙ্গি বিরোধী অভিযানে কেবলই বেসামরিক মানুষজন মারা যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..