কিউবায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ফের মার্কিন ভূখণ্ড থেকেই ষড়যন্ত্র চালানোর ঘটনা সামনে আনলেন কিউবার বিদেশমন্ত্রী ব্রুনো রডরিগেজ। এমনকি ফেসবুকের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। আগামী ১৫ নভেম্বর বিক্ষোভ প্রতিবাদের নামে দেশের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দিতে চাইছে তথাকথিত মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের কয়েকটি গোষ্ঠী। সরাসরি আমেরিকার মদতেই ফেসবুকে আর্কিপেলেগো নামের একটি পেজের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এমনই অভিযোগ করেছেন কিউবার বিদেশমন্ত্রী রডরিগেজ। এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে হাভানায় সভা করতে কিউবার সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছিল ওই ফেসবুক পেজের সদস্যরা। তাদের অনুমোদন খারিজ করার সময় কিউবার সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই মার্কিন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলেছে তথাকথিত মানবাধিকার ও নাগরিকাধিকার কর্মীরা। এই আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের তোলার আগে হাভানায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রডরিগেজ। ওই বৈঠকে বলেন বিক্ষোভের নামে কিউবাকে অশান্ত করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে আমেরিকা। রডরিগেজের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি মার্কিন প্রশাসন। এই বিষয়ে নিশ্চুপ ফেসবুক কর্তৃপক্ষও। গত জুলাই মাসেই মার্কিন ভূখণ্ড, মিয়ামিতেই এই ধরনের বিক্ষোভ আন্দোলনের নামে কিউবাকে অস্থির করে তোলার ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল। যদিও কিউবার সমাজতান্ত্রিক সরকার ও ওই দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল। কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সাম্রজ্যবাদী শক্তিগুলির ক্রমাগত হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করল সিপিআই(এম)। একই সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক কিউবা ও তার সংগ্রামী জনগণের প্রতি সংহতিও জানিয়েছে পার্টি। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি, বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কিউবার নাগরিকদের গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, দশকের পর দশক ধরে সমাজতান্ত্রিক দেশকে অস্থির করে তুলতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির (পিসিসি) নেতৃত্বে লড়াই চালিয়ে জয়ী হয়েছেন কিউবার জনগণ। গত ছয় দশকের ওপর কিউবার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা কিউবার প্রতি আমিরকার সবচেয়ে বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপগুলির মধ্যে একটি। একথা উল্লেখ করে পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি বিবৃতিতে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণেই কিউবার নাগরিকরা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। ৯০ দশকের বিশেষপর্বে এই ধরনের আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার লড়ইায়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জয় অর্জন করেছেন ওই দেশের নাগরিকরা। নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক দুর্বলতা সত্ত্বেও কিউবা তার নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার পরিষেবাগুলিকে বিনামূল্যে ও সর্বজনীন ব্যবস্থা করেছে। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে কিউবার সরকার নিজেরাই করোনা-টিকা তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে দু’বছরের ওপর বয়সী নাগরিকদের মধ্যে একশো শতাংশকে ইতিমধ্যে একটি করে টিকা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বের বহু দেশকেও চিকিৎসক ও চিকিৎসার সহায়তা পাঠাচ্ছে। যা কিউবার মানবকি ও আন্তর্জাতিকতাবাদী চরিত্রকে প্রতিফলিত করেছে। যা বিশ্বজুড়ে উষ্ণ প্রশংসা পেয়েছে। একথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিউবা যেভাবে মহামারী মোকাবিলা করছে এবং অন্য দেশগুলিকে সহায়তা পাঠাচ্ছে তা আমেরিকা, ব্রিটেন, ব্রাজিলের মত উন্নত ও এগিয়ে থাকা দেশগুলির ভূমিকার সম্পূর্ণ বিপরীত। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এদিনের বিবৃতিতে বলেছে যখন কিউবা যখন মহামারীর বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে তার অর্থনীতিকে আগের জায়গায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে। সেই সময় কিউবাকে অস্থির করার মধ্যে দিয়ে সুযোগ নিতে চাইছে আমেরিকা। বহু পুরানো কায়াদায় বিভিন্ন প্রতিবিপ্লবী শক্তিগুলিকে আর্থিকভাবে ও নানাভাবে মদত জুগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিউবাকে অস্থিতিশীল করতে সাম্রাজ্যবাদের সমস্ত অপচেষ্টাকে তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি সৌভ্রাতৃত্বমূলক সংহতি জানানোর কথা এই বিবৃতিতে জানিয়েছে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..