পরিবহনের নৈরাজ্যে জনতার ভোগান্তি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : রাজধানীর পরিবহনে ফের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে, যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর কোনো ধরনের ঘোষণা না দিয়েই বাসভাড়া বাড়ানোর জন্য গাড়ি বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা। পর্যাপ্ত ভাড়া বাড়ানোর পর এখনও সেই নৈরাজ্য বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, এর পাল্টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করা হয়েছে। সেই কারণেই রাজধানীর নানা রুটে গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। আর এতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। ভাড়া বাড়ানোর পর পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল রাজধানীতে কোনো সিটিং সার্ভিস থাকবে না, বাস চলবে না ওয়েবিলে। কিন্তু বাস মালিকরা এ সিদ্ধান্ত মানছে না বলে প্রতিনিয়ত অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে পথে পথে যাত্রীদের সঙ্গে বাসচালক আর শ্রমিকদের বিরোধ বাধছে। মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, মিরপুর-১ নম্বরসহ পুরো মিরপুর এলাকায় অধিকাংশ সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন রুটের বাস থেকে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করছে শ্রমিকরা। অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিলেও মালিকপক্ষ এখনো ওয়েবিলের নির্ধারিত বাড়তি ভাড়া হিসাব করে দিন শেষে টাকা চায়। এতে করে সারাদিন গাড়ি চালিয়েও দিন শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। ভুক্তভোগীরা জানান, দেড়-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন। কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা কিংবা রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মস্থলে পৌঁছান। গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য অতীতেও অনেকবার জনভোগান্তি প্রকট হয়ে উঠলেও এর বিরুদ্ধে কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে গণপরিবহন খাতে মহল বিশেষের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দায় সরকারও এড়াতে পারে না। এদিকে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চারটি প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে- অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো গণপরিবহন ভাড়া বাতিল করে ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য ভাড়া নির্ধারণ করা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে সব ধরনের যানবাহনের সামনে সেটি কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে তা উল্লেখ করে স্টিকার লাগানো, রাজধানীর বাসগুলোতে ওয়েবিল পদ্ধতি বাতিল করা, মালিকদের চাপানো দৈনিক টার্গেট বাতিল করা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..